ভাগ

সিরিয়ার অবরুদ্ধ শহরগুলো থেকে বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধাদের আবারো সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করা হয়েছে। সপ্তাহান্তে এক শক্তিশালী গাড়ি বোমা হামলায় স্থানত্যাগী ১২৬ জন নিহত হওয়ায় এ কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ভয়াবহ ওই হামলায় নিহতদের মধ্যে ৬৮ জনই ছিল শিশু।

সরকার নিয়ন্ত্রিত ফুয়া ও কাফ্রায়া শহর থেকে অনেক বাস সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম আলেপ্পো নগরীর উপকণ্ঠে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ট্রানজিট পয়েন্ট রাশিদিনিতে পৌঁছেছে। মানবাধিকার বিষয়ক সিরীয় পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান রামি আব্দেল রাহমান বলেন, ফুয়া ও কাফ্রায়া থেকে ৩ হাজার লোককে সরিয়ে নিতে গতকাল ভোরে কাজ শুরু হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় জাবাদানি ও বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অপর দুটি এলাকা থেকে প্রায় ৩শ লোককে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। গত শনিবার সিরিয়ার আলেপ্পো শহরের পশ্চিমে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত রাশিদিন এলাকার একটি তল্লাশি চৌকিতে অপেক্ষমাণ বাসবহরটিতে বিস্ফোরক ভর্তি একটি গাড়ি ঢুকে পড়ে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। যাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল তাদের অধিকাংশই শিয়া মুসলিম। নিহতদের মধ্যে ত্রাণকর্মী ও বিদ্রোহী অনেক যোদ্ধাও ছিল। বাসবহরে ওই হামলায় কয়েকটি বাসে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী একজন জানান, তারা শুধু লাশ আর লাশ দেখেছেন। সে ঘটনা বর্ণনা করার মতো নয়। এসব বাসিন্দাদের আলেপ্পোয় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। সরিয়ে নেওয়াদের মধ্যে একজন জানান, আমি আমার নিজের বাড়িতে থাকাকেই বেশি পছন্দ করি। কিন্তু উপায় নেই সন্তানদের কথা ভেবে আমাকে সরে যেতে হচ্ছে। তবে তারপরও ভাগ্যে কী জুটবে আমরা জানি না। ‘ইস্টার সানডে’তে দেওয়া ভাষণে ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা পোপ ফ্রান্সিস এই বোমা হামলাকে ‘পলায়নপর উদ্বাস্তুদের ওপর চালানো জঘন্য হামলা’ বলে বর্ণনা করেছেন।