ভাগ
MADRID, SPAIN - APRIL 12: Cristiano Ronaldo of Real Madrid (7) celebrates with team mates as he scores their second goal during the UEFA Champions League quarter final second leg match between Real Madrid CF and VfL Wolfsburg at Estadio Santiago Bernabeu on April 12, 2016 in Madrid, Spain. (Photo by Mike Hewitt/Getty Images)

পেনাল্টি। লাল কার্ড। অল্পের জন্য লাল কার্ড থেকে রক্ষা। আত্মঘাতী গোল। গোললাইন থেকে দুইবার বল ফেরানো। হ্যাটট্রিক। তুখোড় ট্যাকটিকসে গুরু আনচেলোত্তিকে শিষ্য জিদানের টেক্কা। রেফারিং বিতর্ক।
কী হয়নি ১২০ মিনিটের রিয়াল মাদ্রিদ-বায়ার্ন মিউনিখ ম্যাচে? ঘন ঘন বদলাচ্ছিল ম্যাচের রং। জীবন-মৃত্যু-জীবন। উৎসব-শোক-উৎসব! উত্তেজনার সেই অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর হ্যাটট্রিকে বায়ার্নকে ৪-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে রিয়াল। দুই লেগ মিলিয়ে রিয়ালের অগ্রগামিতা ৬-৩। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ইতিহাস গড়েই প্রথম দল হিসেবে এই স্বপ্নলোকে তারা পৌঁছল টানা সপ্তমবার।

প্রথম লেগে বায়ার্নের মাঠে রোনালদোর জোড়া গোলে রিয়াল জিতেছিল ২-১ ব্যবধানে। পরশু রাতে সে ব্যবধান আরো বাড়িয়ে উৎসবে ভাসছে রিয়াল। কিন্তু উল্টো ছবি মিউনিখে। তাদের কাছে রিয়ালের মাঠে ‘ডাকাতির’ শিকার বায়ার্ন। ৮৩ মিনিট পর্যন্ত ২-১ গোলে এগিয়ে থাকায় সেমিফাইনাল স্বপ্নটা ডানা মেলেছিল বেশ। সেটা কাটা পড়ে ৮৪ মিনিটে আর্তুরো ভিদালের লাল কার্ডে। অতিরিক্ত সময়ে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর দুটি গোলই অফসাইড দাবি তাদের। তাই ভিদাল, আরিয়েন রবেন—দুজনই ম্যাচ শেষে জানিয়েছেন ‘ডাকাতির শিকার আমরা। ’ ক্ষোভ চেপে রাখতে না পেরে ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে রেফারি ভিক্তর কাসাইয়ের সঙ্গে দেখাও করেছেন তাঁরা। তাতে লাভ হয়নি কিছু। স্পেন থেকে আরো একবার ক্ষতবিক্ষত হয়ে দেশে ফিরতে হচ্ছে বায়ার্নকে।

পিছিয়ে থাকায় প্রথম মিনিট থেকেই রিয়ালের ওপর চড়াও বায়ার্ন। কর্নারও আদায় করে নেয় তারা তৃতীয় মিনিটে। দুদলই কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করার পর ২৮ মিনিটে গোলের বন্ধ দ্বারটা খুলতে পারতেন সের্হিহো রামোস। কর্নার থেকে উড়ে আসা বল ফাঁকায় পেয়ে আগুনে শট নিয়েছিলেন রিয়াল অধিনায়ক। সেটা গোললাইনের কাছ থেকে ফেরান জেরোমে বোয়াটেং। রবার্ত লেভানদোস্কি, আরিয়েন রবেনরা বিরতির আগে রিয়ালের পোস্টে শট নিয়েছিলেন আটটি। এর কোনোটি রাখতে পারেননি পোস্টে।
৫০ মিনিটে রবেনের শট গোললাইন থেকে হেডে ফেরান মার্সেলো। তবে ৫৩ মিনিটে আর ভুল নয়। বাঁ-দিক দিয়ে ডি বক্সে ঢোকা রবেনকে ফাউল করেছিলেন কাসেমিরো। রেফারি বাজান পেনাল্টির বাঁশি। এ সময় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড না দেখায় নিজেকে সৌভাগ্যবান ভাবতেই পারের কাসেমিরো। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি লেভানদোস্কি। ৫৭ মিনিটে ভিদাল ক্রসবারের ওপর দিয়ে বল উড়িয়ে না মারলে দ্বিগুণ হতে পারত ব্যবধানটা। ৬৪ মিনিটে করিম বেনজিমার বদলে মার্কো আসেনসিও নামার পর গতি বাড়ে রিয়ালের খেলায়। ৭৬ মিনিটে সমতা ফেরান রোনালদো। কাসেমিরোর ক্রসে অসাধারণ হেডারে বল জালে জড়ান পর্তুগিজ যুবরাজ।

সমতা ফেরানোর ৩৬ সেকেন্ড পরই আত্মঘাতী গোল হজম করে বসে রিয়াল। বিখ্যাত ‘রামোস টাইমে’ গোল করে রিয়ালকে একাধিকবার উদ্ধার করা রামোসই একটি বল বিপদমুক্ত করতে গিয়ে জড়িয়ে দেন জালে। বায়ার্ন ২-১ গোলে এগিয়ে যাওয়ায় মনে হচ্ছিল, স্পেনে জিততে না পারার হতাশার বৃত্তটা ভাঙতে চলেছে এবার। কিন্তু ৮৪ মিনিটে ভিদালের দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার পরই এলোমেলো সব। আসেনসিওর কাছ থেকে বল কাড়ার লড়াইয়ে আগে পা’টা বলে লেগেছিল ভিদালের। পরে লাগে আসেনসিওর পায়ে। কিন্তু রেফারি ফাউল দেওয়ার পাশপাশি দেখান দ্বিতীয় হলুদ কার্ড। বায়ার্ন খেলোয়াড়দের প্রতিবাদেও কাজ হয়নি কোনো।

৯০ মিনিট শেষে দুই লেগ মিলে ৩-৩ সমতা থাকায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০ জনের বায়ার্ন তখন আর পেরে ওঠেনি আগুনে রূপের রিয়ালের সঙ্গে। ১০৪ মিনিটে রামোসের উঁচু করে বাড়ানো বল বুক দিয়ে নামিয়ে নিচু হাফ ভলিতে জালে জড়ান রোনালদো। তবে টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় ম্যাচের গতি বদলে দেওয়া এই গোলের আগে অফসাইড ছিলেন রোনালদো। ১০৯ মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক ও চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে শততম গোলের মাইলফলক পূরণ করেন রিয়ালের প্রাণভোমরা। মাঝমাঠের একটু ওপর দিয়ে বল নিয়ে পুরো ম্যাচ অসাধারণ খেলা মার্সেলো অবিশ্বাস্য দৌড়ে পেছনে ফেলেন প্রাণশক্তি হারানো বায়ার্ন ডিফেন্ডারদের। নিজে গোলে শট না নিয়ে বাড়ান ফাঁকায় থাকা রোনালদোকে, যা জালে জড়িয়ে ঐতিহাসিক ১০০তম গোল পূরণ করেন তিনি। এই গোলের সময়ও রোনালদোর অফসাইডে থাকার অভিযোগ তুলেছে বায়ার্ন। এরপর ১১২ মিনিটে বায়ার্নের কফিনে শেষ পেরেকটা ঠোকেন আসেনসিও। টানা চার মৌসুম স্প্যানিশ ক্লাবগুলোর কাছে হেরে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে যাওয়ার যন্ত্রণায় পুড়ে বাভারিয়ানরা।