নারায়ণগঞ্জ সদরের বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফের চাল বণ্টনকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পিংকি আক্তারের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও মেম্বারদের বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলেছেন পরিষদের একাধিক সদস্য।
অভিযোগ উঠেছে, সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত চাল বণ্টনে নিয়ম না মেনে ইচ্ছেমতো কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে।
জানা গেছে, গত ৭ মে ২০২৬ তারিখে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের জন্য ২ হাজার ৯৯০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ১০ কেজি করে মোট ২৯৯টি ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে ইউনিয়নের হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে এই চাল বিতরণের কথা ছিল।
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের দাবি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ মোট ১২ জন সদস্যের মধ্যে সমন্বয় করে কার্ড বণ্টন করার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক মেম্বারকে মাত্র ৮টি করে কার্ড দেওয়া হয়েছে। অথচ প্রত্যেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি কার্ড পাওয়ার আশা করেছিলেন।
এ বিষয়ে বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মহিউদ্দিন ভূঁইয়া বলেন,
“আমাকে মাত্র ৮টি কার্ড দেওয়া হয়েছে। অথচ আমাদের ৩০টি করে কার্ড পাওয়ার কথা। আমার ওয়ার্ডে প্রায় ৪২০০ ভোটার। এত অল্প কার্ড দিয়ে কিভাবে বণ্টন করবো? তাই আমি কার্ড গ্রহণই করিনি।”
তিনি আরও বলেন,
“বক্তাবলী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আবু বকর কিছু দরিদ্র মানুষ আমার কাছে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু পর্যাপ্ত কার্ড না থাকায় তাদেরও চাল দিতে পারিনি।”
মহিউদ্দিন ভূঁইয়া অভিযোগ করে বলেন, ভিজিএফের চাল বণ্টনের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পিংকি আক্তার কোনো ধরনের আলোচনা বা সমন্বয় করেননি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো বৈঠকও করেননি বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য,
“আমরা বারবার সচিব ও চেয়ারম্যানকে একসাথে বসার জন্য বলেছি। কিন্তু তিনি কখনো আমাদের নিয়ে বসেননি।”
এদিকে গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার প্রশাসক ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হলেও পরিষদের অচলাবস্থা কাটেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সর্বশেষ গত ২৭ এপ্রিল উপজেলা প্রশাসন প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পিংকি আক্তারকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেয়।
তবে দায়িত্ব গ্রহণের পরও ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে দৃশ্যমান কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। ভিজিএফের চাল বণ্টন ছাড়াও বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে পিংকি আক্তারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিষদের একাধিক সদস্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মেম্বার জানান, ইউনিয়ন পরিষদে সমন্বয়হীনতা ও একক সিদ্ধান্তের কারণে জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন করে একটি পক্ষ নিজেদের মতো করে সুবিধা বণ্টনের চেষ্টা করছে।
ভিজিএফের চাল বণ্টন নিয়ে ওঠা এসব অভিযোগ এখন বক্তাবলীজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

রোববার, ২৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ সদরের বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফের চাল বণ্টনকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পিংকি আক্তারের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও মেম্বারদের বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলেছেন পরিষদের একাধিক সদস্য।
অভিযোগ উঠেছে, সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত চাল বণ্টনে নিয়ম না মেনে ইচ্ছেমতো কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে।
জানা গেছে, গত ৭ মে ২০২৬ তারিখে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের জন্য ২ হাজার ৯৯০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ১০ কেজি করে মোট ২৯৯টি ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে ইউনিয়নের হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে এই চাল বিতরণের কথা ছিল।
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের দাবি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ মোট ১২ জন সদস্যের মধ্যে সমন্বয় করে কার্ড বণ্টন করার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক মেম্বারকে মাত্র ৮টি করে কার্ড দেওয়া হয়েছে। অথচ প্রত্যেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি কার্ড পাওয়ার আশা করেছিলেন।
এ বিষয়ে বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মহিউদ্দিন ভূঁইয়া বলেন,
“আমাকে মাত্র ৮টি কার্ড দেওয়া হয়েছে। অথচ আমাদের ৩০টি করে কার্ড পাওয়ার কথা। আমার ওয়ার্ডে প্রায় ৪২০০ ভোটার। এত অল্প কার্ড দিয়ে কিভাবে বণ্টন করবো? তাই আমি কার্ড গ্রহণই করিনি।”
তিনি আরও বলেন,
“বক্তাবলী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আবু বকর কিছু দরিদ্র মানুষ আমার কাছে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু পর্যাপ্ত কার্ড না থাকায় তাদেরও চাল দিতে পারিনি।”
মহিউদ্দিন ভূঁইয়া অভিযোগ করে বলেন, ভিজিএফের চাল বণ্টনের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পিংকি আক্তার কোনো ধরনের আলোচনা বা সমন্বয় করেননি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো বৈঠকও করেননি বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য,
“আমরা বারবার সচিব ও চেয়ারম্যানকে একসাথে বসার জন্য বলেছি। কিন্তু তিনি কখনো আমাদের নিয়ে বসেননি।”
এদিকে গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার প্রশাসক ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হলেও পরিষদের অচলাবস্থা কাটেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সর্বশেষ গত ২৭ এপ্রিল উপজেলা প্রশাসন প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পিংকি আক্তারকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেয়।
তবে দায়িত্ব গ্রহণের পরও ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে দৃশ্যমান কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। ভিজিএফের চাল বণ্টন ছাড়াও বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে পিংকি আক্তারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিষদের একাধিক সদস্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মেম্বার জানান, ইউনিয়ন পরিষদে সমন্বয়হীনতা ও একক সিদ্ধান্তের কারণে জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন করে একটি পক্ষ নিজেদের মতো করে সুবিধা বণ্টনের চেষ্টা করছে।
ভিজিএফের চাল বণ্টন নিয়ে ওঠা এসব অভিযোগ এখন বক্তাবলীজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

আপনার মতামত লিখুন