প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬
রামারবাগে রাস্তায় পাওয়া পরিত্যক্ত পিস্তলটি কে ফেলে গিয়েছিলো- কুতুববাসীর মনে কৌতুহল
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ফতুল্লার কুতুবপুরে প্রকাশ্য রাস্তায় পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে কুতুবপুর ৯নং ওয়ার্ডের রামারবাগের রিয়া গোপ স্টেডিয়াম সংলগ্ন রয়েল গার্মেন্টসের সামনের রাস্তায় অস্ত্রটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। ফতুল্লা মডেল থানার এসআই ফেরদৌসুর রহমান ইমনের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে। তবে এই প্রাণঘাতী অস্ত্রের আসল মালিক কে? কে এই অস্ত্র ফেলে গিয়েছিলো? সে প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি।অস্ত্র উদ্ধারের দিন সকালে এলাকায় একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনাও ঘটে সেখানে। অস্ত্র উদ্ধারের সাথে এঘটনার সম্পৃক্ততা রয়েছে- এমনটাই ধারনা সবার। জানা যায়, ৫ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে না পাওয়ায় সুপারস্টার বাল্ব কারখানার ওয়েস্টেজ ব্যবসায়ী আমির হামজার উপর সন্ত্রাসী হামলা চালায় ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারুক মাদবর এবং তার ছেলে যুবদলনেতা রনি। এসময় হামজার কাছ থেকে নগদ ৯৫ হাজার টাকা ও ৮ আনা ওজনের প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয়দের দৃঢ় ধারণা, সেই ধস্তাধস্তির সময়ই ফারুক মাদবর ও রনি গংদের কারো কাছ থেকে পিস্তলটি রাস্তায় পড়ে যায়।এলাকাবাসী জানান, এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলে আসছে। প্রকাশ্য রাস্তায় বিদেশি পিস্তল উদ্ধার প্রমাণ করে, এলাকায় অস্ত্রের অবাধ ব্যবহার কতটা ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। তারা দ্রুত সুপার স্টার বাল্ব কোম্পানি ও রয়েল গার্মেন্টসসহ আশেপাশের সকল সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে অস্ত্রের মালিককে শনাক্ত করে গ্রেফতারসহ পুরো রহস্য উদঘাটনেে জোর দাবি জানিয়েছে।তদন্তে অবশ্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা। এসআই ফেরদৌসুর রহমান ইমন জানান, সুপারস্টার বাল্ব কারখানার সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট থাকায় কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। রয়েল গার্মেন্টসের ফুটেজ পরীক্ষা করা হলেও সেখান থেকেও কোনো কার্যকর তথ্য মেলেনি। পরিত্যক্ত অস্ত্র হওয়ায় মামলার পরিবর্তে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলির উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কুতুবপুরের ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা বলছেন, প্রকাশ্যে এভাবে অস্ত্র পড়ে থাকা জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। শুধু জিডি করেই দায় শেষ করলে চলবে না, দ্রুত রহস্য উদঘাটন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা তাদের।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ