প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
জলাবদ্ধতা দূর করতে ৪ ইউনিয়নকে সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্তির দাবি এমপি আল আমিনের
||
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেছেন, কুতুবপুর, ফতুল্লা, এনায়েতনগর ও কাশীপুর ইউনিয়নকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতায় আনার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে এবং এ নিয়ে জাতীয় সংসদেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এক আলাপচারিতায় তিনি জানান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে ইতিবাচক মত দিয়েছেন। বর্তমানে পুরো প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে এবং প্রশাসকের কার্যালয়ের মতামতের অপেক্ষা করা হচ্ছে।তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন গঠিত হয়েছে কুতুবপুর, ফতুল্লা, এনায়েতনগর, কাশীপুর, গোগনগর, আলীরটেক ও বক্তাবলী ইউনিয়ন নিয়ে। এর মধ্যে কুতুবপুর, ফতুল্লা, এনায়েতনগর ও কাশীপুর শহরের একেবারে সংলগ্ন হওয়ায় দ্রুত নগরায়ণ হয়েছে এবং জনসংখ্যার ঘনত্বও অনেক বেশি।এমপি আল আমিন জানান, শুধু ভোটারের সংখ্যাই প্রায় পাঁচ লাখের বেশি। প্রকৃত জনসংখ্যা আরও কয়েক গুণ বেশি, কারণ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। অথচ এখনো ইউনিয়ন পর্যায়ের নাগরিক সুবিধা দিয়ে এত বড় নগর এলাকার সমস্যা সমাধান সম্ভব হচ্ছে না।তিনি বলেন, একদিকে ঢাকা সিটি করপোরেশন, অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন থাকলেও মাঝখানের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো ইউনিয়ন ব্যবস্থার অধীন। ফলে জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ সংকট, অপর্যাপ্ত সড়ক, মশার উপদ্রব, অপরিষ্কার খাল, আইনশৃঙ্খলা ও মাদক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে রয়ে গেছে।তিনি আরও বলেন, সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার অভাবে এক বিভাগ রাস্তা নির্মাণ করলে অন্য বিভাগ এসে তা কেটে ফেলে। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের সেই সংস্থাগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার ক্ষমতা নেই। সিটি করপোরেশনের আওতায় এলে বড় বাজেট, সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং আধুনিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।বাজেট প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে সিটি করপোরেশনের বাজেট ৬০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকার মধ্যে। এলাকা সম্প্রসারণ হলে বাজেট আরও বাড়বে, ফলে বড় সড়ক নির্মাণ, প্রশস্ত ড্রেন, খাল সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মশক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে।তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ মূলত গ্রামীণ এলাকার জন্য গঠিত হলেও এ অঞ্চল এখন আর গ্রাম নয়; এটি পূর্ণাঙ্গ নগর এলাকায় পরিণত হয়েছে। তাই নাগরিকদের উপযুক্ত সুবিধা নিশ্চিত করতে হলে সিটি করপোরেশনের আওতায় আনা ছাড়া বিকল্প খুব কম।আব্দুল্লাহ আল আমিন অভিযোগ করেন, অতীতে শামীম ওসমানসহ কিছু জনপ্রতিনিধি নিজেদের স্বার্থে এ এলাকার উন্নয়ন চাননি। বারবার সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্তির আলোচনা উঠলেও তা বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হয়নি।তিনি আরও বলেন, ট্যাক্স বাড়বে—এমন প্রচারণা অনেকাংশেই বিভ্রান্তিকর। বাস্তবে কর খুব বেশি বাড়ে না, বরং নাগরিক সুবিধা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। জাইকা, এডিবিসহ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোও সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে থাকে।তিনি জানান, সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দরের কিছু এলাকা সিটি করপোরেশনের আওতায় আসার পর সেখানে সড়ক, ড্রেনেজ ও নাগরিক সুবিধার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। ফতুল্লা অঞ্চলেও একই ধরনের উন্নয়ন প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী এসব এলাকাকে সিটি করপোরেশনের আওতায় এনে নাগরিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ