প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬
সম্ভাব্য মুক্তির পথে আইভী
||
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর পাঁচ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল থাকবে কি না—এ বিষয়ে আগামী ৩ মে আদেশ দেবেন আপিল বিভাগ। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।এর আগে, ২৬ এপ্রিল হাইকোর্ট আইভীকে একের পর এক মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট (গ্রেপ্তার দেখানো) কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। একইসঙ্গে তাকে নতুন কোনো মামলায় হয়রানি বা গ্রেপ্তার না করার নির্দেশও দেন আদালত। বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন ও অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু।অ্যাডভোকেট সাজু জানান, সেলিনা হায়াৎ আইভী ইতোমধ্যে ১০টি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। তবে পরে নতুন আরও দুই মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেই হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।রিটের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত নির্দেশ দেন, আইভীকে নতুন করে কোনো মামলায় আসামি করা যাবে না এবং পুরোনো মামলায়ও নতুন করে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো যাবে না। এতে কারাগারে থাকা সাবেক মেয়র আইভীর আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে জামিনে মুক্তির সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় অনেক আওয়ামী লীগ নেতা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। আবার অনেকে জামিনের পর নতুন মামলায় শ্যোন অ্যারেস্টের মুখে পড়েছেন। আইভীর ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হলেও, এবার উচ্চ আদালতের নির্দেশে নতুন করে তাকে গ্রেপ্তার বা আসামি করার পথ অনেকটাই সীমিত হয়েছে। ফলে বর্তমানে চলমান মামলাগুলোতে জামিন পেলেই তার মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসা থেকে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসবের মধ্যে পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট জামিন দিলেও তা আপিল বিভাগে স্থগিত হয়ে যায়।পরবর্তীতে ১৮ নভেম্বর আরও পাঁচ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর গত ৫ মার্চ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ওই জামিন স্থগিত করে নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান।প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আদমজী এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন পোশাক শ্রমিক মিনারুল ইসলাম। পরে তাকে শহরের খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ২৩ সেপ্টেম্বর নিহতের ভাই নাজমুল হক বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ১৩২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৩০০ জনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ১২ নম্বর আসামি ছিলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। এরপর তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা দায়ের হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ