প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে নীরব এনসিপি, মাঠ দখল জামায়াতের
||
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। ইতোমধ্যে জামায়াত ও এনসিপি দেশের একাধিক সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম সামনে এনেছে। নারায়ণগঞ্জেও জামায়াতের পক্ষ থেকে মহানগর আমীর মাওলানা আবদুল জব্বারকে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে সামনে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে এনসিপির পক্ষ থেকে আলোচনায় রয়েছেন মহানগরের আহ্বায়ক শওকত আলী।তবে বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেনি। রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে, বর্তমান প্রশাসকই শেষ পর্যন্ত দলটির প্রার্থী হতে পারেন। দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারলে তার পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন অনেকে। আর সে কারণেই নিজেকে প্রমাণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বর্তমান প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান।বিরোধী দুই শক্তির মধ্যে মাঠের রাজনীতিতে আপাতত এগিয়ে রয়েছে জামায়াত। এনসিপির নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা তৈরি করলেও বাস্তব মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তা বেশি দেখা যাচ্ছে জামায়াতের। এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী এখনো তেমনভাবে মাঠে নামতে পারেননি।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জামায়াতের মহানগর আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার বেশ জোরেশোরেই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি ইতোমধ্যে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করছেন। পাশাপাশি এলাকায় এলাকায় নিজের পরিচিতি বৃদ্ধি, প্রচার-প্রচারণা, পোস্টারিং এবং নির্বাচনী বৈঠকও চালিয়ে যাচ্ছেন।অন্যদিকে এনসিপি এখনো নারায়ণগঞ্জে মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি। সম্ভাব্য হিসেবে শওকত আলীর নাম এগিয়ে থাকলেও তিনি এখনো দৃশ্যমান কোনো বড় উদ্যোগ নেননি। মহানগরের আহ্বায়ক হওয়ার পরও তার কার্যক্রম মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ওয়ার্ড পর্যায়ে গণসংযোগ, নির্বাচনী প্রচারণা কিংবা পোস্টারিংও চোখে পড়ছে না। ফলে তিনি এখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসতে পারেননি।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। একজন প্রার্থীকে ভোটারদের কাছে পরিচিত করে তুলতে হয় আগেভাগেই। সেই দিক থেকে জামায়াতের প্রার্থী আবদুল জব্বার অনেকটাই এগিয়ে। প্রচার-প্রচারণা ও পোস্টারিংয়ের মাধ্যমে তিনি নিজেকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন। বিপরীতে শওকত আলী এখনো ভোটারদের সামনে নিজেকে উপস্থাপন শুরুই করতে পারেননি।মহানগর জামায়াতের নেতা হাফেজ মোমিন বলেন, “জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই জামায়াত মেয়র নির্বাচনকে সামনে রেখে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। মাওলানা আবদুল জব্বারকে সামনে রেখে নির্বাচনী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি কাউন্সিলর প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণা হলেই পুরোদমে নির্বাচনী কাজ শুরু হবে।”এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী শওকত আলী বলেন, “আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে কমিটি গঠনের কাজ চলছে। সেই অনুযায়ী যোগাযোগও শুরু হয়েছে। তবে এনসিপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। প্রার্থী ও নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হলে আমরা পূর্ণাঙ্গভাবে মাঠে নামবো।”সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্বাচনী মাঠে এখনো অনেকটাই পিছিয়ে আছে এনসিপি। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছেন। জোটগতভাবে নির্বাচন হলে এই প্রস্তুতির পার্থক্য প্রার্থী সমর্থনের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। আর এনসিপি যদি এককভাবে নির্বাচন করে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের জন্য ফলাফল সুখকর নাও হতে পারে। তাই এখন থেকেই আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ