প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬
জিয়া হল পুনর্নির্মাণে সংসদ থেকে রাজপথে সরব বিএনপি
||
নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় অবস্থিত একসময়ের ঐতিহ্যবাহী শহীদ জিয়া হল এখন জরাজীর্ণ ও অবহেলিত অবস্থায় ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। রাজনৈতিক সভা, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও জাতীয়তাবাদী চেতনার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই মিলনায়তনকে ঘিরে নতুন করে সক্রিয় হয়েছে বিএনপি। স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায়ের নেতারা একযোগে জিয়া হলের পুনর্নির্মাণের দাবি তুলেছেন।দলটির নেতাদের মতে, এটি শুধু একটি ভবন সংস্কারের বিষয় নয়; বরং জাতীয়তাবাদী ইতিহাস, রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার পুনরুদ্ধারের প্রশ্ন। জাতীয় সংসদ থেকে রাজপথ—সব জায়গাতেই এখন জিয়া হল পুনর্নির্মাণ বিএনপির অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।সম্প্রতি জাতীয় সংসদে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম জিয়া হল পুনর্নির্মাণের দাবি উত্থাপন করেন। এর ধারাবাহিকতায় ২৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানও একই দাবি জানান। এতে বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়।নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুও বিভিন্ন সভা-সমাবেশে জিয়া হল পুনর্নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। তাদের ভাষ্য, জিয়া হল নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক ইতিহাস ও জাতীয়তাবাদী চেতনার একটি বড় অংশ। তাই এটিকে হারিয়ে যেতে দেওয়া মানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলা।এদিকে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপুও জিয়া হল ইস্যুতে সরব হয়েছেন। যদিও তার নির্বাচনী এলাকা রূপগঞ্জ, তবুও তিনি জিয়া হলের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এর পুনর্নির্মাণের আবেদন জানান।তার এ পদক্ষেপ স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিএনপি নেতাদের মতে, এটি দলীয় ও আদর্শিক দায়বদ্ধতারই বহিঃপ্রকাশ।২৫ এপ্রিল জিয়া হল প্রাঙ্গণে আয়োজিত পাট পণ্যজাত মেলায় উপস্থিত বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমও জানান, এমপি দিপু ইতোমধ্যে পুনর্নির্মাণের জন্য ডিও লেটার দিয়েছেন এবং অন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যদেরও একই উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। এতে স্পষ্ট হয়, বিষয়টি এখন সরকারি পর্যায়েও গুরুত্ব পাচ্ছে।১৯৭৮ সালের ১০ মার্চ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান টাউন হলটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে ১৯৮১ সালের ১৯ জুলাই তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার এটি ‘শহীদ জিয়া হল’ নামে উদ্বোধন করেন। দীর্ঘদিন ধরে এটি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।বিএনপি নেতাদের দাবি, জিয়া হল পুনর্নির্মাণ করে আধুনিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স গড়ে তোলা গেলে সেখানে মিলনায়তন, সাংস্কৃতিক মঞ্চ, পাঠাগার, নাগরিক সম্মেলনকেন্দ্র এবং তরুণদের জন্য ইতিহাসচর্চার সুযোগ তৈরি হবে। এতে শহরের সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণেও বড় ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ