প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
টানবাজার ঘাটে ‘গোপনে’ বাড়তি টোল আদায়
||
নারায়ণগঞ্জ শহরের টানবাজার খেয়াঘাটে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত টোলের অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন শীতলক্ষ্যা নদী পার হয়ে এই ঘাট ব্যবহার করে শহর ও বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন হাজারো মানুষ। তাদের বড় একটি অংশ নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ, বিশেষ করে হোসিয়ারি ও পোশাক শ্রমিক।সরকারিভাবে জনপ্রতি দুই টাকা টোল নির্ধারিত থাকলেও বর্তমানে যাত্রীদের কাছ থেকে তিন টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।বন্দরের রূপালী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি নিয়মিত টানবাজার স্কুল ঘাট ব্যবহার করে কর্মস্থলে যান। তার ভাষ্য, আগে সবসময় দুই টাকা টোল দেয়া হলেও কয়েকদিন ধরে তিন টাকা নেয়া হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে ইজারাদারের লোকজন দুর্ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।এক নারী পোশাক শ্রমিক বলেন, “সাড়ে তিন হাজার টাকা বেতনে সংসার চালাই। দুই টাকা দিলেও কষ্ট হয়, এখন আরো এক টাকা বেশি চায়। বেতনও ঠিক সময়ে পাই না, এর মধ্যে বাড়তি ভাড়া নেয়া আমাদের জন্য কষ্টকর।”জানা গেছে, টানবাজার খেয়াঘাটটি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর আওতাধীন। গত বছরের জুনে যুবদল নেতা মাজহারুল ইসলাম জোসেফের সহযোগী কামাল হোসেন ৩৫ লাখ টাকায় ঘাটটির ইজারা নেন।নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআইডব্লিউটিএর এক কর্মকর্তা বলেন, ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে থাকায় অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ঘটনা ঘটতে পারে। তার দাবি, “আর এক মাসের মতো ইজারা আছে। এরপর নতুন দরপত্র আহ্বান করা হবে।”এ বিষয়ে ইজারাদার কামাল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।তবে যুবদল নেতা মাজহারুল ইসলাম জোসেফ বলেন, শুরুতে তারা ঘাটটি ইজারা নিলেও পরে সাব-টেন্ডারের মাধ্যমে অন্য একজনকে পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি দাবি করেন, “আমরা পরিচালনায় থাকার সময় অতিরিক্ত টোল নেয়া হয়নি। এখন কেউ বেশি টাকা নিলে সেটা অবৈধ।”বিআইডব্লিউটিএর সহকারী সমন্বয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনসুর আলম জানান, অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ তাদের জানা নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ইজারাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ