প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
টিপুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবি মৌমিতা পরিবহনের
||
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বিরুদ্ধে মৌমিতা পরিবহন থেকে মাসিক এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে পরিবহন কর্তৃপক্ষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এ অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।মৌমিতা পরিবহনের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আমিনুর রহমান এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, টিপুর বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির যে অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে তার কোনো সত্যতা নেই। এটি একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও পরিবহন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা। তিনি এ ধরনের প্রচারের নিন্দা জানিয়ে এটিকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উল্লেখ করেন।এদিকে স্থানীয় বিএনপি ও মহানগর বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ ও ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে অ্যাডভোকেট টিপুকে পরিকল্পিতভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় একটি মহল তাকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে।তাদের ভাষ্য, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির ভেতরে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে স্বার্থান্বেষী একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে এবং সেই প্রেক্ষাপটেই টিপুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, আওয়ামী লীগের কিছু ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তুলে কয়েকজনের ভূমিকা নিয়েও দলীয় পর্যায়ে প্রশ্ন রয়েছে।অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির একাধিক সদস্যের মতে, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কোনো আইনজীবী বা রাজনৈতিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ করা আইনি জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। একজন সিনিয়র আইনজীবী বলেন, অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে, অন্যথায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি চাইলে মানহানির আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন। আইনের দৃষ্টিতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা যায় না।এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং আওয়ামী লীগ ও ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই বারবার ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হয়েছেন। তার দাবি, মৌমিতা পরিবহনের জিএম নিজেই অভিযোগের অসত্যতা নিশ্চিত করেছেন, ফলে এ ধরনের প্রচারণার উদ্দেশ্য রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করা।তিনি আরও বলেন, তিনি একজন আইনজীবী হিসেবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কেউ যদি তার বিরুদ্ধে আনা চাঁদাবাজির অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন, তাহলে তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াতে প্রস্তুত।স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, অতীতের মতো এবারও ত্যাগী নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে দলকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তাদের মতে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং এসব প্রচারণা সাংগঠনিক কার্যক্রমে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ