প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬
মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, সিদ্ধিরগঞ্জে প্রশাসন-পুলিশের যৌথ উদ্যোগ
||
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে স্থানীয়দের সঙ্গে প্রশাসন ও পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভা থেকে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি।মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাদানীনগর এলাকায় এ সভা হয়। এতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।সভায় সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, মাদকসংক্রান্ত বেশ কিছু অভিযোগ তাঁর কাছে এসেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার থেকে এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে মাদক কারবারিদের সতর্ক করে তিনি বলেন, মাদকের সঙ্গে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।মসজিদ ও মাদরাসার দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, এলাকার আলেমরা যেন মসজিদ ও মাদরাসায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মাদকের ক্ষতিকর দিক এবং চলমান মাদকবিরোধী অভিযান সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করেন।নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় না পেলে মাদকসেবী ও কারবারিদের পক্ষে এলাকায় টিকে থাকা কঠিন। রাজনৈতিক নেতাদের মাদকের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি মাদক থেকে সমাজকে মুক্ত করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে তাঁর ধারণা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন এমপি মান্নান।জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, বাইরে থেকে মাদক এনে এলাকায় সরবরাহের সঙ্গে যেমন কিছু ব্যবসায়ী জড়িত, তেমনি স্থানীয়দের মধ্যেও অনেকে মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের ভেতর থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।তিনি বলেন, পরিবারের কোনো সদস্য মাদকাসক্ত হলে তাকে মাদক থেকে দূরে রাখার দায়িত্বও পরিবারকেই নিতে হবে। বাইরের মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিতে পারলেও পরিচিত বা পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে সামাজিক প্রতিরোধ আরও গুরুত্বপূর্ণ।জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, মাদকের সঙ্গে জড়িত মানুষের তুলনায় এর বিরুদ্ধে থাকা মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। তাঁর দাবি, এলাকার মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ মানুষ মাদকের সঙ্গে জড়িত হলেও তাদের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।তিনি বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ মানুষ সবাই মিলে কাজ করলে সমাজকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব। সন্তানদের নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দিতে মাদকের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, মাদক কারবারিদের নাম জানলেও অনেকে প্রকাশ্যে বলতে ভয় পান। এভাবে তথ্য গোপন রাখলে মাদক ব্যবসায়ীরা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠার সুযোগ পায়।তিনি স্থানীয়দের প্রতি মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের চিহ্নিত করে প্রশাসনকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সামাজিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।সভায় বক্তারা বলেন, শুধু মাদক নয়—চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও নারী নির্যাতনের মতো সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধেও প্রশাসন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদকমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গঠনে সবার সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ