প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
গ্যাস নেই, রান্না বন্ধ: চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী
||
তীব্র গ্যাস সংকটে নাকাল নগরবাসী, রান্না বন্ধ বহু বাসাবাড়িতেনারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ গ্যাস সরবরাহে মারাত্মক ঘাটতি দেখা দেওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। মঙ্গলবার সকাল থেকে নগরীর অধিকাংশ আবাসিক এলাকায় গ্যাসের চাপ একেবারেই কমে যায়, কোথাও কোথাও পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে রান্নাবান্না করতে না পেরে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ ও স্কুলগামী সন্তানদের পরিবারের সদস্যরা।গ্যাসের অভাবে অনেক পরিবারকে বাধ্য হয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। এতে সংসারের নিয়মিত খরচের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে। আবার কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে কাঠের চুলায় রান্না করছেন। অনেকে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে রান্না করা খাবার এনে পরিবারের সদস্যদের খাওয়াচ্ছেন।নগরীর ১ নম্বর বাবুরাইল এলাকার বাসিন্দা শাহানাজ বেগম জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে রান্না করতে গিয়ে গ্যাস না থাকায় বিপাকে পড়েন তিনি। তিনি বলেন, ‘সকাল ৭টার দিকে রান্নার জন্য উঠেই দেখি চুলায় গ্যাস নেই। স্বামীকে অফিসে যেতে হবে, সন্তানদের স্কুলে যেতে হবে—কিন্তু সকালের নাস্তাই সময়মতো তৈরি করতে পারিনি। পরে বাধ্য হয়ে এই গরমের মধ্যে কাঠের চুলায় রান্না করতে হয়েছে। খড়কুটো ও কাঠ দিয়ে রান্না করা খুবই কষ্টকর।’কাশিপুরের হোসাইনী নগর এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। ওই এলাকার বাসিন্দা মিতু আক্তারের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, চুলার ওপর হাঁড়িতে পানি বসিয়ে রাখা হলেও দীর্ঘ সময়েও তা গরম হয়নি।মিতু আক্তার বলেন, ‘আমাদের এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই গ্যাসের সমস্যা চলছে। সাধারণত সকালে গ্যাস থাকে না। কখনো অল্প সময়ের জন্য আসলেও চাপ এত কম থাকে যে রান্না শেষ করার আগেই আবার চলে যায়। তবে আজ সকাল থেকে একদমই গ্যাস পাইনি। চালের পানি গরম করার জন্য চুলায় হাঁড়ি বসিয়েও কোনো কাজ হয়নি। গতকাল বিকেলে সামান্য গ্যাস ছিল, কিন্তু তা দিয়ে রান্না করা সম্ভব হয়নি। আজ ছোট বোনের বাসা থেকে খাবার পাঠিয়েছে। সেটি না পেলে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হতো।’স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, নারায়ণগঞ্জের বেশিরভাগ এলাকায় দিনের বেলায় গ্যাস সরবরাহ প্রায় বন্ধের মতো অবস্থায় রয়েছে। কখনো অল্প সময়ের জন্য গ্যাস এলেও চাপ এতটাই কম থাকে যে চুলা জ্বালিয়ে স্বাভাবিকভাবে রান্না করা যায় না। ফলে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় রান্না নিয়ে পরিবারগুলোকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।হঠাৎ করে গ্যাস সরবরাহে এমন ঘাটতির কারণ জানতে চাইলে তিতাসের নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক বিপণন বিভাগের ডিজিএম মনজুর আজিজ মোহন জানান, এলএনজি সরবরাহের অন্যতম প্রধান উৎস এফএসআরইউয়ের (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড গ্যাসিফিকেশন ইউনিট) দুটি ইউনিটের একটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। সেটি মেরামতের পর পুনরায় সংযোগ দেওয়ার কাজ চলছে। এ কারণেই গত কয়েক দিন ধরে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।তিনি বলেন, ‘এফএসআরইউয়ের ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিটটি মেরামত করা হয়েছে। এখন সেটিতে নতুন করে সংযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আমাদের ধারণা, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে।’আবাসিক গ্রাহকদের দুর্ভোগের বিষয়ে তিতাসের এই কর্মকর্তা বলেন, নারায়ণগঞ্জ ডিপার্টমেন্টে তাদের প্রায় ৮১ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে ডাউনস্ট্রিম এলাকায় থাকা গ্রাহকেরাই বর্তমান সংকটে তুলনামূলক বেশি সমস্যায় পড়েছেন। অন্যদিকে আপস্ট্রিম এলাকার কিছু গ্রাহক সীমিত পরিমাণে হলেও গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছেন।মনজুর আজিজ মোহন আরও বলেন, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত কাজ চলছে এবং সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ