প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬
আড়াইহাজারে ৩ মাসে ৪০ কিশোরী নিখোঁজ
||
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে কিশোরীদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪০ কিশোরীর নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এসব ঘটনার পেছনে মুঠোফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসছে।সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) একদিনেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চার কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগে থানায় জিডি করেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। নিখোঁজদের বয়স ১৪ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে দুজনের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। অপর দুজনের সন্ধানে অনুসন্ধান চলছে।স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ হওয়া কিশোরীদের মধ্যে স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীও রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে পরিচিত কিংবা অপরিচিত তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগের পর অনেকেই আবেগের বশে বাড়ি ছেড়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কখনো কখনো আশপাশের এলাকার পরিচিত কিশোর-তরুণদের সঙ্গে সম্পর্কের ঘটনাও ঘর ছাড়ার কারণ হিসেবে সামনে আসছে।পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য, অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন মুঠোফোনে কথাবার্তার পর সম্পর্কের বিষয়টি পরিবারের কাছে প্রকাশ পায়। এরপর অভিভাবকের বাধা, শাসন কিংবা সম্পর্ক মেনে না নেওয়ার আশঙ্কা থেকে কোনো কোনো কিশোরী বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়।তবে কিশোরীদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে শুধু মুঠোফোন ব্যবহারের ফল হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, কিশোর বয়সের আবেগ, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ঘাটতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে অসচেতনতা এবং সন্তানদের প্রতি পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবও বিষয়টির সঙ্গে জড়িত।নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অভিভাবক বলেন, কোনো কিশোরী নিখোঁজ হলে অনেক পরিবার সামাজিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করে। বিশেষ করে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় থানায় জানাতেও দেরি হয়। এতে নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান পেতে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রমও বিলম্বিত হতে পারে।আরেক অভিভাবকের ভাষ্য, বিষয়টি লুকিয়ে রাখার চেয়ে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো বেশি জরুরি। নিখোঁজ হওয়ার পরপরই তথ্য দেওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থান শনাক্তে পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ কিশোরীর অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের কাছে ফেরার বিষয়ে জটিলতা তৈরি হয়। বিশেষ করে কোনো সম্পর্কের কারণে বাড়ি ছাড়লে তার সিদ্ধান্তের পেছনে প্রভাব, চাপ বা প্রলোভন কাজ করেছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রাখা হচ্ছে।আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুর রহমান বলেন, কিশোরীদের মুঠোফোন ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া কিংবা শুধু শাসনের মাধ্যমে এ ধরনের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। নিরাপদভাবে প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে তাদের সচেতন করার পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ বাড়াতে হবে।আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন জানান, গত তিন মাসে কিশোরীসহ ৪০টি নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হয়েছে। কোনো কিশোরী নিখোঁজ হলে বিষয়টি গোপন না রেখে দ্রুত থানায় জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।ওসি বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তির সাম্প্রতিক ছবি, মুঠোফোন নম্বর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য, কার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল এবং সম্ভাব্য কোথায় যেতে পারে—এ ধরনের তথ্য দ্রুত পুলিশকে দেওয়া হলে অনুসন্ধানে তা সহায়ক হতে পারে।সংশ্লিষ্টদের মতে, কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানো এবং কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে পরিবারের নিয়মিত যোগাযোগ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ