প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
আফগানি বেশে খেলনা বন্দুক হাতে ভিডিও, নারায়ণগঞ্জে গ্রেপ্তার দুই তরুণ
||
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য ‘প্রাঙ্ক’ ভিডিও তৈরি করতে খেলনা বন্দুক হাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন ব্যস্ত এলাকায় ঘোরাঘুরি করা দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২-এর ৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তারা কারাগারে রয়েছেন।গ্রেপ্তার দুই তরুণ হলেন বন্দর উপজেলার আমিন আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মো. লিমন তোহা (২২) ও মো. ইয়াছিন মোল্লা (২৩)।শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের দুই নম্বর রেলগেট এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।পুলিশ জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে ওই দুই তরুণকে কালো রঙের লম্বা কুর্তা, পায়জামা ও টুপি পরে খেলনা বন্দুক হাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। ভিডিওগুলোতে তারা উদ্যান, ব্যস্ত সড়ক এবং দোকানের সামনে অবস্থান করেন। তাদের আচরণে পথচারী, রিকশাচালক ও শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ উঠে।ভিডিওগুলো লিমন তোহার ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়। একটি ভিডিওতে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ‘আফগান জালেবি’ গান ব্যবহার করা হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। কেউ কেউ ঘটনাটিকে দেশে অস্ত্রের অবাধ বিস্তারের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে পোস্টও দেন।শুক্রবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। পরে জেলা পুলিশের তথ্য ও প্রযুক্তি ইউনিট ভিডিও বিশ্লেষণ করে দুই তরুণকে শনাক্ত করে।শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে জানান আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভিডিওটির একটি অংশ নারায়ণগঞ্জ সিটি পার্কে ধারণ করা হয়েছিল। পার্কটির আগের নাম ছিল শেখ রাসেল নগর পার্ক।বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, দুই তরুণ শটগান ও এসএমজি সদৃশ দুটি প্লাস্টিকের খেলনা বন্দুক নিয়ে জনসমক্ষে মহড়া দেন। খেলনা অস্ত্র হলেও সেটি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা, পথচারী ও শিশুদের ভয় দেখানো এবং সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়াকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখছে পুলিশ।তবে লিমনের পরিবারের দাবি, ভিডিওগুলো নিছক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট ও ‘প্রাঙ্ক’ হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। লিমনের মা লাইজু আক্তার বলেন, প্রায় ১০ দিন আগে খেলনা বন্দুক ব্যবহার করে ভিডিওটি তৈরি করা হয়। তার ছেলে ও ১৪ বছর বয়সী মেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য বিভিন্ন ভিডিও তৈরি করেন এবং ইয়াছিন ভিডিও তৈরিতে সহযোগিতা করতেন।তিনি বলেন, বিষয়টি এতদূর গড়াবে তা তাদের ধারণা ছিল না। মজার ছলে বিদেশি ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তার ছেলে এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি করেছিল বলে দাবি করেন তিনি।লিমনের মা আরও বলেন, পুলিশ রাতের দিকে ফোন দিয়ে থানায় ডাকলে তারা বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারেন। এখন ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবার উদ্বিগ্ন বলেও জানান তিনি।পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, লিমন ২০২৫ সালে নারায়ণগঞ্জ কমার্স কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন। এরপর তিনি আর কোথাও ভর্তি হননি। তার বাবা বন্দরের একটি ডকইয়ার্ডে সহযোগী হিসেবে কাজ করেন এবং পরিবারটি ভাড়াবাসায় থাকে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ