প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
গুমের প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত চাইলেন আবদুল্লাহ আল আমিন
||
গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় রাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট ও দৃঢ় হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল আমিন। তিনি বলেছেন, গুমের অভিযোগ ওঠার পর সত্য উদঘাটন, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশ আর কখনো গুম, নির্যাতন ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের পুরোনো চর্চায় ফিরে যাবে না। কিন্তু বাস্তবতার কিছু ঘটনা সেই প্রত্যাশা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।বাগেরহাটের মোংলার মিরাজ শেখকে গুমের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মিরাজ নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর স্বজনরা থানায় অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু প্রিয়জনের সন্ধান ও বিচার চাওয়ার পর উল্টো পরিবারের সদস্যদের ২৭ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন ব্যক্তি গুমের শিকার হয়েছেন—এমন অভিযোগ করাই যদি তাঁর পরিবারের জন্য শাস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে একজন ভুক্তভোগী বা তাঁর স্বজন রাষ্ট্রের কাছে কীভাবে ন্যায়বিচার চাইবেন?এমপি আল আমিন বলেন, গুমের অভিযোগকারী ব্যক্তি বা তাঁর পরিবারের ওপর এমন প্রমাণের দায় চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়, যেখানে অভিযোগের বিপরীতে রাষ্ট্রযন্ত্রের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। প্রতিটি অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া কোনো উদ্যোগকে কেবল রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে বাতিল করে দেওয়া সমীচীন নয়। কোনো আইন বা উদ্যোগে দুর্বলতা থাকলে তা সংশোধন ও আরও কার্যকর করা যেতে পারে। তবে রাজনৈতিক বিবেচনায় এমন কোনো নতুন ব্যবস্থা নেওয়া উচিত নয়, যা শেষ পর্যন্ত ভুক্তভোগীদের আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে।আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, রাজনীতিতে মতের পার্থক্য থাকতেই পারে। তবে মানবাধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, পুলিশ সংস্কার এবং গুমের মতো মৌলিক প্রশ্নে বাংলাদেশকে কোনোভাবেই পেছনের দিকে যাওয়া উচিত নয়।তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গুমের প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নাগরিকের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।আলোচনা সভায় বিভিন্ন সময়ে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসিনুর রহমানসহ মানবাধিকার কর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ