প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
ফতুল্লা থানার হাজতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, দুই পুলিশ প্রত্যাহার
||
ফতুল্লা থানার হাজতে স্লোগানের ভিডিও, দায়িত্বে অবহেলায় দুই পুলিশ প্রত্যাহারনারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানার হাজতখানায় আটক থাকা কয়েকজন কিশোর-তরুণের মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ওই সুযোগে তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম ও কনস্টেবল জাহাঙ্গীর হোসেনকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী। তিনি জানান, দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে একজন এসআই ও একজন কনস্টেবলকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাতে সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে মিছিলের প্রস্তুতির অভিযোগে ১০ কিশোর-তরুণকে আটক করা হয়। পরে তাদের ফতুল্লা মডেল থানার হাজতে রাখা হয়।আটক অবস্থায় হাজতের ভেতর থেকে তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন এবং সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ‘আজমেরী ওসমান’ নামে একটি ফেসবুক পেজেও ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়।পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা আজমেরী ওসমানের পক্ষে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আজমেরী ওসমান প্রয়াত এক সংসদ সদস্যের ছেলে এবং জুলাই আন্দোলনসংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত ও পলাতক রয়েছেন।হাজতখানায় পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের হাতে মোবাইল ফোন যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখে কর্তৃপক্ষ দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, হাজতে থাকা আটক ব্যক্তিরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এসআই মনিরুল ইসলামের কাছ থেকে মুঠোফোন ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছিলেন। সেই সুযোগেই তারা স্লোগান দিয়ে ভিডিও ধারণ করেন এবং পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।ওসি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী আটক ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি পুলিশকে নিশ্চিত করতে হয়। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সরল বিশ্বাসে তাদের মুঠোফোন ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।ঘটনার পর দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে তদন্ত করা হয়। তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি উঠে আসায় এসআই মনিরুল ইসলাম ও কনস্টেবল জাহাঙ্গীর হোসেনকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ