প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফতুল্লায় জে.আর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে সুস্থতার বর্ষপূর্তি ও সনদ বিতরণ
||
ফতুল্লায় জে.আর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে সুস্থতার বর্ষপূর্তি ও সনদ বিতরণমাদকমুক্ত ও সুস্থ জীবনে ফিরে আসা ব্যক্তিদের সাফল্য উদযাপনের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জে.আর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে সুস্থতার বর্ষপূর্তি, কোর্স সমাপনী সনদ বিতরণ ও সম্মাননা অনুষ্ঠান।‘মাদককে না বলুন, সুস্থ-সুন্দর জীবন গড়ুন’, ‘সুস্থ দেহ, সুন্দর মন’ এবং ‘মাদকমুক্ত হোক প্রতিটি জীবন’—এমন নানা স্লোগানকে সামনে রেখে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকায় অবস্থিত কেন্দ্রটিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে মাদকাসক্তি থেকে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা ব্যক্তিদের নতুন পথচলাকে উৎসাহিত করাই ছিল অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। এ সময় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে কোর্স সম্পন্নকারীদের হাতে সনদ ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অতিথিরা।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জে.আর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ফারুক আহমেদ কচির সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রটির জ্যেষ্ঠ পরিচালক অর্নব আহমেদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রোগ্রামার সাব্বির হোসেন।এ ছাড়া ব্যবসায়ী জে.আর কেমিক্যালের চেয়ারম্যান মো. সেলিম হোসেন এবং জে.আর ইমপ্যাক্সের পরিচালক মো. আসিফুল হোসাইন রাব্বিও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানের শুরুতে চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা ব্যক্তিদের সংগ্রাম, সাফল্য এবং পুনর্বাসনের নানা দিক তুলে ধরা হয়। পরে অতিথিরা তাদের হাতে কোর্স সমাপনী সনদ ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মনির হোসেন বলেন, মাদকাসক্তি একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার ও সামাজিক সম্পর্ককে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবে সঠিক চিকিৎসা, নিয়ম-শৃঙ্খলা, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি এবং পরিবারের সহযোগিতা থাকলে একজন মানুষ এই অবস্থা থেকে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অতীতের ভুল দিয়ে একজন মানুষের পুরো জীবন নির্ধারিত হয় না। মাদক ছেড়ে সুস্থ জীবনে ফিরে আসার সিদ্ধান্তই নতুন জীবনের প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে। হতাশ না হয়ে ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।মাদকমুক্ত জীবনে ফিরে আসা ব্যক্তিদের নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি অন্যদেরও মাদক থেকে দূরে থাকার বিষয়ে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান প্রধান অতিথি।সভাপতির বক্তব্যে ফারুক আহমেদ কচি বলেন, একজন মানুষের মাদকাসক্তি থেকে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি তার পরিবার ও সমাজের জন্যও একটি বড় সাফল্য। রিকভারি সম্পন্ন ব্যক্তিদের নতুন জীবন ধরে রাখতে পরিবারের ভালোবাসা, সহযোগিতা ও ইতিবাচক পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।তিনি বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।বিশেষ অতিথি অর্নব আহমেদ বলেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার পাশাপাশি তাদের মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তোলা এবং সমাজে পুনর্বাসন করাও অত্যন্ত জরুরি। একজন ব্যক্তি মাদককে পরিহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এলে তার সঙ্গে তার পরিবারও নতুন আশার আলো দেখতে পায়।তিনি মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের অবহেলা বা ঘৃণা না করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও পারিবারিক সহযোগিতা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মাদকের নেতিবাচক প্রভাব শুধু একজন ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পুরো পরিবার ও সমাজের ওপর পড়ে। তাই মাদক প্রতিরোধের পাশাপাশি আসক্ত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পরিবার, সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ