প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
জুলাইযোদ্ধা ফয়সালের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও ফয়েজ উদ্দিন
||
অর্থসংকটে উন্নত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছিলেন না জুলাইযোদ্ধা ফয়সাল হাওলাদার। ডান হাতের গুরুতর সমস্যায় চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার এমন পরিস্থিতিতে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসন। চিকিৎসার জন্য ফয়সালের হাতে অনুদানের চেক তুলে দিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন।বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ফয়সালের হাতে সহায়তার চেক তুলে দেন ইউএনও। এ সময় তিনি ফয়সালের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী পাশে থাকার আশ্বাস দেন।সহায়তার চেক হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফয়সাল হাওলাদার। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় হামলার শিকার হন তিনি। তাঁর দাবি, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাঁর ডান হাতের রগ কেটে দেয়। এরপর থেকে হাতটি স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে পারছেন না তিনি।ফয়সালের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা নিলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। প্রতিদিনের ওষুধের খরচ বহন করাও তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে সময়মতো চিকিৎসা না হলে ডান হাতের কার্যক্ষমতা স্থায়ীভাবে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।ফয়সাল বলেন, হামলার পর থেকেই তাঁর ডান হাত স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারার বিষয়টি সম্প্রতি দৈনিক আমার দেশ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে আসে। ওই প্রতিবেদন ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিনের নজরে আসার পর উপজেলা প্রশাসন তাঁর চিকিৎসায় সহযোগিতার উদ্যোগ নেয়।সহায়তা পাওয়ার পর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফয়সাল বলেন, প্রতিদিন তাঁকে অনেক টাকার ওষুধ খেতে হয়, যা কেনার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাঁর নেই। এমন পরিস্থিতিতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁর পাশে দাঁড়ানোয় এই অনুদান চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় সহায়তা হবে।চেক হস্তান্তরের সময় ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, দৈনিক আমার দেশ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে ফয়সালের শারীরিক অবস্থা ও আর্থিক সংকটের বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁর চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।ইউএনও আরও বলেন, অর্থের অভাবে যাতে ফয়সালের চিকিৎসা বন্ধ না হয়ে যায়, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন সাধ্যমতো সহযোগিতা করবে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হবে।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চিকিৎসার ব্যয় নিয়ে সংকটে থাকা ফয়সালের জন্য উপজেলা প্রশাসনের এই সহায়তা তাঁর চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ