প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬
টিপুর শোকজের জবাব দিলেন আনোয়ার প্রধান
||
টিপুর শোকজের জবাব দিলেন আনোয়ার প্রধান, অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবিনারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের লিখিত জবাব দিয়েছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ. এম. আনোয়ার প্রধান।বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দেওয়া জবাবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন, অস্পষ্ট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে শোকজ নোটিশে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট বিবরণ না থাকা এবং মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব চাওয়ার বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছেন আনোয়ার প্রধান।সাংগঠনিক কার্যক্রমে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি নিয়মিত অংশ নিয়েছেন। এর উদাহরণ হিসেবে গত ২৫ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে নিজে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি।আনোয়ার প্রধান আরও দাবি করেন, ৫ আগস্টের আগেও তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। এ সময় তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় ২১টি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয় এবং প্রায় ১২৫ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে বলেও জবাবে উল্লেখ করেন তিনি।৬ অক্টোবরের আদালতপাড়ার ঘটনা নিয়ে ব্যাখ্যাশোকজ নোটিশে উল্লেখ করা ৬ অক্টোবরের আদালতপাড়ার ঘটনা নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন আনোয়ার প্রধান।তার দাবি, ওইদিন সাখাওয়াত হোসেন খানের নেতৃত্বে এবং তার বডিগার্ড হিসেবে থাকা এক পুলিশ সদস্যের সহযোগিতায় অ্যাডভোকেট এস. এম. গালিব নারায়ণগঞ্জের দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটরের (পিপি) ওপর অতর্কিত হামলা করেন।আনোয়ার প্রধানের ভাষ্য, সাধারণ আইনজীবীরা পিপিকে রক্ষায় এগিয়ে এলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে তিনি চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি কোনো অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেননি কিংবা কারও প্রতি মারমুখী আচরণ করেননি বলেও দাবি করেন।তিনি আরও বলেন, সাধারণ আইনজীবীদের হাতে তিনি অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে পিপির ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিচার দাবি করেন বলে জবাবে উল্লেখ করেন।অনলাইন বক্তব্যের অভিযোগ নিয়েও আপত্তিশোকজ নোটিশের তৃতীয় অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ার প্রধান বলেন, কয়েকটি অনলাইন গণমাধ্যমে তার বক্তব্যের আংশিক অংশ প্রচার করে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করা হয়েছে।তবে শোকজ নোটিশে কোন গণমাধ্যমে তিনি কী বক্তব্য দিয়েছেন, তার সুনির্দিষ্ট বিবরণ দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। ফলে এ ধরনের অস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আনোয়ার প্রধান।স্পেশাল পিপি সুমনকে ঘিরে অভিযোগ অস্বীকারস্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সুমনকে ঘিরে শোকজে উত্থাপিত অভিযোগও অস্বীকার করেছেন আনোয়ার প্রধান।তার দাবি, এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট সুমন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেননি। তাই এ বিষয়কে কেন্দ্র করে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া সমীচীন নয় বলে জবাবে উল্লেখ করেন তিনি।শোকজ নোটিশে অভিযোগগুলোর বিবরণ অস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নয় দাবি করে আনোয়ার প্রধান আরও বলেন, জবাব দেওয়ার জন্য মাত্র ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। তার ভাষ্য, এ ধরনের নোটিশ ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।নিজেকে বিএনপির একজন নিবেদিত কর্মী দাবি করে আনোয়ার প্রধান বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে আইনজীবীদের অভ্যন্তরীণ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিবের পক্ষ থেকে তাকে শোকজ করা অযৌক্তিক ও অসমীচীন।সবশেষে শোকজ নোটিশে উত্থাপিত বিষয়গুলো বিবেচনা করে তার বিরুদ্ধে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান তিনি।উল্লেখ্য, গত ৮ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু অ্যাডভোকেট এইচ. এম. আনোয়ার প্রধানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে লিখিত জবাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন আনোয়ার প্রধান।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ