প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬
আবুল কাউসার আশার নেতৃত্বে মুছাপুরে মা'দকবিরোধী অভিযান, বিশেষ অভিযানের দাবি
||
মুছাপুরে মাদকবিরোধী অভিযান, বিশেষ অভিযানের দাবি এলাকাবাসীরনারায়ণগঞ্জের বন্দরের মুছাপুর ইউনিয়নে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয়রা। আবুল কাউসার আশার নেতৃত্বে পরিচালিত মাদকবিরোধী কার্যক্রমের পাশাপাশি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকটি এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ উদ্যোগে অংশ নেন ব্যবসায়ী হাজী ইকবাল, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার লাভলী আক্তার, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।এলাকাবাসীর দাবি, মুছাপুর ইউনিয়নের বাকসরাইল গ্রাম ও তাজপুর ঋষিপাড়াসহ কয়েকটি এলাকায় মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।সতর্কতার পরও মাদক বিক্রি বন্ধ না হওয়ার অভিযোগস্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাদক বিক্রি বন্ধে সংশ্লিষ্টদের আগেও একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। এ বিষয়ে মাইকিং করেও প্রচার চালানো হয়েছিল। কিন্তু এসব উদ্যোগের পরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি তাঁদের।এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, মাদক বিক্রির বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন ব্যক্তিদের কেউ কেউ হুমকির মুখে পড়ছেন। তাঁদের ভাষ্য, অতীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে কয়েকজন আটক হলেও পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তাঁদের কেউ কেউ আবার একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।আটক ব্যক্তিদের অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগটির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।স্থানীয়দের অভিযোগে সাজুনি, হাফেজ, শাকিল, লিটন, ডালিম, সাকিব, জোহরা, হানিফ ও হামিজাসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই কিংবা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।৬ নম্বর ওয়ার্ডে বিশেষ অভিযানের দাবিবাকসরাইল ও তাজপুর ঋষিপাড়াসহ মাদক বিক্রির অভিযোগ ওঠা এলাকাগুলোতে দ্রুত বিশেষ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন ও নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তাঁরা।এলাকাবাসীর মতে, অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে পুনরায় মাদক বিক্রি বন্ধে নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে মাদকসংক্রান্ত সমস্যা চলতে থাকায় তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামাজিক প্রতিরোধের পাশাপাশি প্রশাসনের কার্যকর সহযোগিতা জরুরি।মুছাপুর ইউনিয়নে মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা পরান, ফেরদৌস, বিএনপি নেতা তাজুল, শফিকুল, মেছাল, সিরাজউদ্দিন, শাহাবুদ্দিন, লকত আলী, জামাল ও মতিনসহ অনেকে।এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিলে মাদক বিক্রির অভিযোগগুলো তদন্তের আওতায় আসবে এবং ইউনিয়নে নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ