প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্য, তা ধরে রাখতে হবে: মঈন খান
||
নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য ধরে রাখার আহ্বান মঈন খানেরনারায়ণগঞ্জের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সব ধর্মের মানুষের মিলেমিশে বসবাসের সংস্কৃতি অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তাঁর মতে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, সত্য প্রতিষ্ঠা এবং নির্যাতিত মানুষের পাশে থাকার শিক্ষাই হওয়া উচিত দুর্গোৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ।শনিবার (১৭ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ নগরীর ঐতিহ্যবাহী আমলাপাড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।মন্ত্রী নারায়ণগঞ্জের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, একসময় পাটশিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল এই বন্দরনগরী। পাটশিল্পের সুবাদে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নারায়ণগঞ্জের পরিচিতি গড়ে উঠেছিল। শিল্প ও বাণিজ্যের ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের যে সংস্কৃতি এখানে রয়েছে, সেটিও ধরে রাখতে হবে।তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসীকে নিজেদের এই ঐতিহ্য বজায় রাখতে হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রত্যয় নিয়ে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।দুর্গোৎসব থেকে ন্যায় প্রতিষ্ঠার শিক্ষা নেওয়ার আহ্বানউৎসবের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, পূজামণ্ডপে মানুষের উপস্থিতি শুধু আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা বক্তৃতার জন্য নয়; বরং আনন্দ-উৎসবের অংশ হওয়ার পাশাপাশি এর অন্তর্নিহিত শিক্ষাও উপলব্ধি করা জরুরি।তিনি বলেন, পৃথিবীতে চিরকালই সত্য ও মিথ্যা, শুভ ও অশুভ শক্তির মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়ার তাৎপর্যের মধ্যেও এই দ্বন্দ্বের প্রতিফলন দেখা যায়।মন্ত্রীর ভাষ্য, দুর্গাপূজা থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, মিথ্যার পরিবর্তে সত্য প্রতিষ্ঠা এবং নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। এসব মূল্যবোধ বাস্তব জীবনে ধারণ করতে পারলেই উৎসবের আয়োজন সার্থক হবে।দেবীর প্রতীকী তাৎপর্য তুলে ধরলেন মন্ত্রীদেবী দুর্গার বিভিন্ন নাম ও প্রতীকের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মঈন খান বলেন, দেবীর একটি পরিচিত নাম মহিষাসুরমর্দিনী। এই নামের মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে শুভের প্রতিষ্ঠার বার্তা প্রকাশ পায়।দেবীর দশভুজা রূপের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, দেবীর হাতে থাকা অস্ত্রগুলোও প্রতীকীভাবে অন্যায় দমন এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার বার্তা বহন করে। দুর্গাপূজার আয়োজন থেকে এই শিক্ষা গ্রহণ করতে না পারলে উৎসবের প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণ হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।মন্ত্রী আরও জানান, গত বছরও তিনি পূজার সূচনালগ্নে আমলাপাড়া পূজামণ্ডপে এসেছিলেন। এবারও একই মণ্ডপে এসেছেন। চাঁদের অবস্থান ও গণনার কারণে এবার পূজার আনন্দ-উৎসবের জন্য এক দিন বেশি পাওয়া যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।উপস্থিত ছিলেন প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারাআমলাপাড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির এবং জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান।এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, সংসদ সদস্য আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউছার আশা এবং সদর উপজেলা প্রকৌশলী ইয়াসির আরাফাতসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ