প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬
ফতুল্লায় নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, কথিত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা গ্রেপ্তার
||
ফতুল্লায় ধর্ষণের অভিযোগে রাজীব গ্রেপ্তার, রাজনৈতিক পদ নেই বলে জানাল পুলিশনারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক নারীকে ধর্ষণ এবং তাঁর চাচাতো বোনকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় রাজীব (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিজেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিলেও সংগঠনটিতে তাঁর কোনো পদ-পদবি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই ঘটনায় করা ধর্ষণচেষ্টার মামলায় লাবনী নামে আরেক নারীও গ্রেপ্তার হয়েছেন।বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকা থেকে রাজীবকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী।পুলিশ জানায়, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় রাজীব ছাড়াও রাসেল, টিটু ও লাবনীকে আসামি করা হয়েছে। ফতুল্লা থানার উপপরিদর্শক রফিক জানান, ওই মামলায় লাবনীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।বাসা ছাড়তে চাওয়ায় হুমকির অভিযোগমামলার এজাহারে ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, তিনি ও তাঁর চাচাতো বোন লাবনীর সঙ্গে একই বাসায় ভাড়া থাকতেন। সেখানে লাবনী তাঁদের রাজীব ও রাসেলের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়ানোর প্রস্তাব দিতেন। পরে লাবনীর সাবেক স্বামী টিটুসহ রাজীব ও রাসেলও ওই বাসায় যাতায়াত শুরু করেন এবং একই ধরনের প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ধরনের প্রস্তাবে বিরক্ত হয়ে বাসা ছেড়ে যাওয়ার কথা জানালে তাঁদের হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেন ওই নারী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর বাসাভাড়া পরিশোধ করে তাঁরা অন্যত্র আশ্রয় নেন। ওই দিন বিকেলে জামাকাপড় নিতে পুরোনো বাসায় গেলে লাবনী ও টিটু তাঁকে আটকে রেখে মারধর করেন। একই সময় তাঁর চাচাতো বোনকে ধরে এনে আটকে রাখেন রাজীব ও রাসেল।ক্লাবে নিয়ে ধর্ষণ ও টাকা আদায়ের অভিযোগএজাহারে আরও বলা হয়, ১৯ অক্টোবর দুপুরে দুই নারীকে রাজীবের একটি ক্লাবে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওই নারীকে আটকে রেখে রাজীব ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সময়ে তাঁর চাচাতো বোনকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন রাসেল। ব্যর্থ হয়ে তাঁকে মারধর করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ রয়েছে।ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, তাঁদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁর চাচাতো বোনের স্বামীকে ফোন করে আরও ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ হিসেবে আদায় করা হয়। পরে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে মিথ্যা বক্তব্য লিখে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়ার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে পুলিশের বক্তব্যরাজীবের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, “রাজীব একসময় আওয়ামী লীগ করতো। ইদানীং সে বিএনপির সাথে ঘেঁষা শুরু করেছে। তবে তার কোনো পদপদবি আমরা পাইনি।”অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলার অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ