প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬
প্রশাসন-স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে নির্বিঘ্নে শেষ হলো নারায়ণগঞ্জের দুর্গোৎসব
||
সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নারায়ণগঞ্জে শেষ হলো দুর্গোৎসবউৎসবের আনন্দ, ধর্মীয় আচার আর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে শেষ হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব ২০২৬। মণ্ডপে পূজা-অর্চনা থেকে শুরু করে বিসর্জনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদযাপন কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত উদ্যোগে উৎসবের পরিবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে উঠে এসেছে নারায়ণগঞ্জের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চিত্র।বুধবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টা ১৫ মিনিটে নগরীর ৫ নম্বর ঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের কার্যক্রম শেষ হয়। জেলা জুড়ে এবার ২৪০টি পূজামণ্ডপের মধ্যে ২১৪টির প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। ২৫টি মণ্ডপের প্রতিমা এবার বিসর্জন দেওয়া হবে না। অপর একটি মণ্ডপের প্রতিমা পরবর্তী সময়ে বিসর্জন দেওয়ার কথা রয়েছে।বিসর্জন কার্যক্রমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন খান, পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়কারী তারিকুল সুজনসহ পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা।উৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে পূজার আগে থেকেই নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বিভিন্ন মণ্ডপ ও বিসর্জন ঘাট পরিদর্শন করেন এবং আয়োজকদের সঙ্গে সমন্বয় করেন। পূজার দিনগুলোতে নিরাপত্তা নজরদারি ও টহলের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকেরাও দায়িত্ব পালন করেন। নদীপথে প্রতিমা বিসর্জন এবং সড়কে শোভাযাত্রার চলাচল স্বাভাবিক রাখতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির দুর্গোৎসব সফলভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রশাসনের উদ্যোগের পাশাপাশি আয়োজক ও ভক্তদের সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরেন। ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মনিরুজ্জামান মিয়া উৎসবের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের সম্পর্ক অটুট রাখার আহ্বান জানান।আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার পূজামণ্ডপগুলোতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। নারী, শিশু ও বয়স্কদের নির্যাতন বা হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনাও জানা যায়নি। উৎসবের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং স্বেচ্ছাসেবকেরা সহযোগিতা করেন।ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি শুভেচ্ছা বিনিময় ও পারস্পরিক সহযোগিতায় দুর্গোৎসব পরিণত হয় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মিলনমেলায়। আনন্দঘন পরিবেশে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা। তাঁদের প্রার্থনায় ছিল সবার শান্তি, কল্যাণ ও মঙ্গল কামনা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ