প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬
যুবদল নেতা জহিরুল হত্যা, ছাত্রদল নেতাসহ ২১ জনের নামে মামলা
||
সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতা হত্যায় মামলা, প্রধান আসামি ছাত্রদল নেতা রিজভীনারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতা ফকির জহিরুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় রাজনৈতিক বিরোধ ও নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে বিরোধের অভিযোগ সামনে এসেছে। এ ঘটনায় ছাত্রদল নেতা রিজভীকে প্রধান আসামি করে ২১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও আট থেকে দশজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।নিহত জহিরুলের ভাগনে ইসমাইল হোসেন শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সোনারগাঁ থানায় মামলাটি করেন। মামলার প্রধান আসামি রিজভী আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব মোবারক হোসাইনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জহিরুল ইসলাম খালিয়ারচর গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে। মুন্সিগঞ্জে ভাড়া বাসায় বসবাসের পাশাপাশি সোনারগাঁয়ের চরকিশোরগঞ্জ বাজারে একটি ফার্মেসি চালাতেন তিনি।প্রার্থিতা নিয়ে বিরোধের অভিযোগমামলার বাদী ইসমাইল হোসেনের দাবি, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার আলোচনা শুরু হওয়ার পর জহিরুলকে প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এ নিয়ে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো এবং অর্থ দাবি করার অভিযোগও করেছেন তিনি।এজাহারে আগের একটি হামলার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর আড়াইহাজারের পুরোনো থানা-সংলগ্ন সিএনজি স্ট্যান্ডে জহিরুলের ওপর হামলা হয়। এ ঘটনায় তিনি ওই বছরের ২৯ নভেম্বর আড়াইহাজার থানায় মামলা করেন। সেই মামলাটি এখনো বিচারাধীন।ইসমাইলের অভিযোগ, আগের মামলার পরও জহিরুলের ওপর হামলার আশঙ্কা ছিল। নিরাপত্তার কারণে তিনি গ্রামের বাড়িতে নিয়মিত থাকতেন না। তবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করতে এলাকায় যাতায়াত করতেন।ফার্মেসি থেকে ফেরার পথে হামলার অভিযোগমামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে ফার্মেসি বন্ধ করে বাসায় ফিরছিলেন জহিরুল। রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে চর হোগলার কাশেমনগরে দারুস সুন্নাহ খালেদ সিদ্দিকী মডেল মাদ্রাসার কাছের একটি কাঁচা রাস্তায় পৌঁছালে তাঁর ওপর হামলা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।বাদীর দাবি, রিজভীর নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জহিরুলের পথ আটকে তাঁকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে রাস্তায় ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা।পরে স্বজনেরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁকে মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে যাওয়ার পথেই জহিরুল হামলাকারীদের কয়েকজনের পরিচয় জানিয়েছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করেছেন বাদী। তাঁর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। তবে সেখানে নেওয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল বারিক জানিয়েছেন, হত্যার ঘটনায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ