প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬
হকার উচ্ছেদে গিয়ে বিক্ষোভ-হাতাহাতির মুখে সাখাওয়াত
||
রাতে হকার উচ্ছেদে সাখাওয়াত, গাড়ি আটকে বিক্ষোভ-হাতাহাতিনারায়ণগঞ্জ শহরের শায়েস্তা খাঁ সড়কে রাতের বেলা হকার উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেন হকাররা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় প্রশাসকের সঙ্গে থাকা সিটি করপোরেশনের কর্মী ও বিএনপির লোকজনের সঙ্গে হকারদের হাতাহাতিও হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে নগরীর কালিরবাজারের ব্যাংকের মোড় হিসেবে পরিচিত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। উত্তেজনার কারণে প্রায় এক ঘণ্টা সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ ছিল।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, রাতে সিটি প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিয়ে শায়েস্তা খাঁ সড়কে হকার উচ্ছেদে যান। গ্রীনলেজ ব্যাংকের মোড় এলাকায় অভিযান শুরু হলে আকস্মিক উচ্ছেদে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা মালামাল সড়কে রেখে প্রতিবাদ জানান এবং উচ্ছেদকারীদের সঙ্গে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে প্রশাসকের গাড়ি আটকে দেওয়া হয়।খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে বিএনপির নেতাকর্মীরাও সেখানে যান। তাঁদের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে সাখাওয়াত হোসেন গাড়িতে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।সিটি প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, শায়েস্তা খাঁ সড়কে রাত ৯টা থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত কাঁচামালের গাড়ি ও পণ্য ওঠানামার কারণে সড়কটি বন্ধ থাকে। এ সমস্যা দূর করতেই তিনি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছিলেন। তাঁর অভিযোগ, এ সময় হকাররা উচ্ছেদকর্মীদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন এবং তাঁর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। পরে তাঁরা মালামাল সড়কে রেখে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেন। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর তাঁরা সেখান থেকে চলে যান।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শায়েস্তা খাঁ সড়কে এর আগেও একাধিকবার হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে কয়েক দিন পর আবারও সড়কটি হকারদের দখলে চলে যায়। গত ফেব্রুয়ারিতে সিটি প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বঙ্গবন্ধু সড়ক ও শায়েস্তা খাঁ সড়কে কয়েক দফা অভিযান চালানো হলেও স্থায়ীভাবে হকারমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে রাতে কাঁচাবাজারের সবজির গাড়ি ও বিক্রেতাদের মালামাল ওঠানামার কারণে সড়কটিতে চলাচল ব্যাহত হয়।সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, যান চলাচল ও পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হকারদের জন্য পাশের রেললাইনের কাছে জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। তবে হকাররা সেখানে না গিয়ে মূল সড়কেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। এ কারণে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে মালামাল জব্দ করা হয়।ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে যান জাতীয়তাবাদী হকার্স ইউনিয়ন দলের নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি মিজানুর রহমান রনি। তিনি বলেন, সিটি প্রশাসক প্রায় রাতেই উচ্ছেদ অভিযান চালান। রাতের বেলায় মালামাল জব্দ করায় হকারদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে তর্কবিতর্কের পর পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করা হবে বলেও জানান তিনি।নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুর রহমান বলেন, সিটি করপোরেশন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে এসেছিল। তবে এ বিষয়ে প্রশাসন বা পুলিশকে আগে জানানো হয়নি। অভিযান শেষে হকারদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার খবর পেয়ে তিনি পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জে হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে তৎকালীন সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় আইভী, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ