প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রো অ্যাকটিভ হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ
||
প্রো অ্যাকটিভ হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ, বিচারের দাবিতে অভিভাবকদের মানববন্ধনবিশেষ প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ: সন্তান হারানোর বেদনা নিয়ে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকার প্রো অ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে শিশু সন্তান হারানো কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা। এসব মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহির দাবিতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন তাঁরা।কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অভিভাবকদের অভিযোগ, হাসপাতালে শিশুদের ভর্তি করার পর বিভিন্ন পরীক্ষা ও ব্যয়বহুল ওষুধের পেছনে বিপুল অর্থ খরচ করতে হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসার মান নিয়ে তাঁদের গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের দাবি, মাসদাইরের দুই মাস বয়সী রাইজান, ভুঁইঘরের মারুফা, আয়েশা এবং বন্দর এলাকার মদনগঞ্জের একটি শিশুসহ একাধিক শিশুর মৃত্যুতে হাসপাতালের চিকিৎসা ও সেবার ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।১১ দিনে বিল ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা, অভিযোগ রাইজানের পরিবারেরমাসদাইরের বাসিন্দা রুবেল রহমান ও রজনী রহমানের অভিযোগ, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত দুই মাস বয়সী ছেলে রাইজানকে প্রো অ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. নাজমুল হোসেনের তত্ত্বাবধানে তাকে প্রথমে নবজাতক ও শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) নেওয়া হয়। এরপর স্থানান্তর করা হয় পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (পিআইসিইউ)।শিশুটির চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাবা-মা অভিযোগ করেন, পিআইসিইউর নার্স ইনচার্জ নাসিমা বেগম তাঁদের সন্তানকে যথাযথভাবে ওষুধ ও নেবুলাইজার দেননি। তাঁদের ভাষ্য, হাসপাতালে ১১ দিন থাকার পর ১১ অক্টোবর জানানো হয়, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার স্কয়ার বা এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।রাইজানের পরিবারের দাবি, ওই সময়ের মধ্যে হাসপাতালের বিল দাঁড়ায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। পরে ১২ অক্টোবর রাতে শিশুটিকে ঢাকার সিরাজুল ইসলাম মেডিকেলে নেওয়ার জন্য রওনা হলে পথেই তার মৃত্যু হয়।দুই দিনের ব্যবধানে শিশুর মৃত্যু, প্রশ্ন পরিবারেরবন্দরের মদনগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা দিদার ব্যাপারী ও তাঁর স্ত্রী মিতালি আক্তারও হাসপাতালটির চিকিৎসা নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের সন্তানের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি সফল অস্ত্রোপচার হয়েছিল। সেখানে পিআইসিইউতে শয্যা না পাওয়ায় গত ১৩ অক্টোবর শিশুটিকে প্রো অ্যাকটিভ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।দম্পতির দাবি, ভর্তির সময় তাঁদের সন্তান হাসিখুশি ছিল। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার পর বিভিন্ন পরীক্ষা ও ওষুধের জন্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়। ভর্তির দুই দিন পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়। পরে ১৭ অক্টোবর বিকেলে সন্তান মারা যাওয়ার খবর পান তাঁরা।সন্তান হারানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দিদার ব্যাপারী অভিযোগ করেন, চিকিৎসায় অবহেলার কারণেই তাঁর শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও খরচের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে তাঁর অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের কোনো তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।আয়েশার রোগ নির্ণয় নিয়ে পরিবারের অভিযোগসিদ্ধিরগঞ্জের নয়াপাড়া এলাকার আমিনুল ইসলাম ও আমেনা বেগমের ১০ বছর বয়সী মেয়ে আয়েশাকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সর্দি-জ্বরের কারণে প্রো অ্যাকটিভ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল বলে জানান তার বাবা-মা।পরিবারের অভিযোগ, শুরুতে চিকিৎসকেরা শিশুটির ডেঙ্গু হয়েছে বলে জানান। তাঁদের দাবি, এ সময় ১৬ হাজার টাকা দামের পাঁচটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। পাঁচ দিন পর চিকিৎসকেরা ডেঙ্গু নয়, নিউমোনিয়া হয়েছে বলে জানান—এমনটাই অভিযোগ পরিবারের।আমিনুল ও আমেনার ভাষ্য, এরপর নিউমোনিয়ার চিকিৎসা চলাকালে মেয়ের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। ১২ অক্টোবর তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ১৪ অক্টোবর হাসপাতালেই আয়েশার মৃত্যু হয়।মেয়ের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আমেনা বেগম বলেন, তাঁর সন্তানের কী রোগ হয়েছিল, তা চিকিৎসকেরা তাঁকে পরিষ্কারভাবে বোঝাতে পারেননি। চিকিৎসায় ভুলের কারণেই মেয়েকে হারিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যঅভিযোগের বিষয়ে প্রো অ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেপুটি ডিরেক্টর ডা. শ্রাবণের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শিশু রোগীদের নিয়ম মেনেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ বক্তব্য দেওয়ার পর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় অভিভাবকদের উত্থাপিত অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসায় অবহেলা বা ভুল চিকিৎসার অভিযোগ প্রমাণের জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা নথি, বিশেষজ্ঞ মতামত ও যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ