প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬
শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে আওয়ামী লীগকে দায়ী করলেন এমপি আল আমিন
||
শ্রমিক অসন্তোষ ঘিরে আওয়ামী লীগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন এমপি আল আমিননারায়ণগঞ্জের সাম্প্রতিক শ্রমিক আন্দোলনের পেছনে আওয়ামী লীগের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন। ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হতে পারে উল্লেখ করে ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।রোববার (৮ নভেম্বর) জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। সভায় সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষ ছাড়াও তাবলিগ জামাতের বিরোধ, মাদক পরিস্থিতি, পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা এবং ফতুল্লা স্টেডিয়াম এলাকার ওভারব্রিজের বিষয় তুলে ধরেন সংসদ সদস্য।শ্রমিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে আল আমিন বলেন, প্রায় দুই মাস আগে এক সভায় তিনি গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকায় আন্দোলনের বিষয়ে আগে থেকেই ধারণা পেয়েছিলেন এবং এতে আওয়ামী লীগের সমর্থন থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন। ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্টদের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের ব্যক্তিরা সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলে আন্দোলনের সময় উসকানির সুযোগ তৈরি হতে পারে।সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান এবং তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রসঙ্গও তোলেন আল আমিন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সক্রিয় থাকার সুযোগ পেলে তাঁদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হবে। এ বিষয়ে এককভাবে নয়, সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।তবে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে উপেক্ষা করার পক্ষেও নন বলে জানান এই সংসদ সদস্য। তাঁর বক্তব্য, শ্রমিকদের দাবি ও মালিকদের নিরাপত্তা—দুটিই সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে শ্রমিক আন্দোলন মোকাবিলা করতে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।ধর্মীয় বিরোধের বিষয়ে আল আমিন বলেন, তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। জেলায় বড় একটি তাবলিগ জামাতের মারকাজ থাকার পাশাপাশি সাদপন্থীদের নতুন একটি মসজিদ নির্মাণের বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে আলেম সমাজসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আগাম আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের পাশের সড়ক ও মাঠের আগের কাঠামো পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরে স্থাপনাটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।জেলার মাদক পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। রূপগঞ্জে এক পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনা উল্লেখ করে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাঁর মতে, শুধু মাদকসেবীদের নয়, মাদক সরবরাহকারী, আমদানিকারক এবং মাদক বিক্রির স্পট পরিচালনাকারীদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।এ ছাড়া ফতুল্লা স্টেডিয়াম এলাকার ওভারব্রিজ নিয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আল আমিন। সেখানে একাধিক দুর্ঘটনা ও স্থানীয় অসন্তোষের কথা উল্লেখ করে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর আশঙ্কা, ওই এলাকায় বড় কোনো দুর্ঘটনা বা আন্দোলন হলে এর প্রভাব পুরো নারায়ণগঞ্জে পড়তে পারে।বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র কাম্য নয়। তবে আওয়ামী লীগ কোনো পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ