দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে বসা হকারদের কারণে নারায়ণগঞ্জ নগরবাসী এক ধরনের ভোগান্তির মধ্যে ছিল। পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্ধারিত ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে সড়কে চলাচল করতে হতো। এতে যেমন বাড়ত দুর্ভোগ, তেমনি সৃষ্টি হতো যানজট ও বিশৃঙ্খলা।গত ১৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ শহরে হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পর পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে। ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন নগরবাসী। দীর্ঘদিন পর মানুষ নির্বিঘ্নে ফুটপাতে হাঁটতে পারছেন।অতীতে হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে একাধিকবার উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীও হকার উচ্ছেদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছিলেন। তবে এবার ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা।তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই শহরের ফুটপাত ও প্রধান সড়কে হকার বসতে দেওয়া হবে না।এ কাজে মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে সামাজিক সংগঠন ‘উই আর ভলান্টিয়ার’। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক আহমেদুর রহমান তনু ও তার টিম নিয়মিত শহরের বিভিন্ন এলাকায় তদারকি করছেন, যাতে পুনরায় ফুটপাত দখল না হয়।এদিকে হকার উচ্ছেদের এক সপ্তাহ না পেরোতেই পুনর্বাসনের দাবিতে আন্দোলনে নামে হকাররা। তাদের আন্দোলনে কয়েকজন বামপন্থী নেতার সম্পৃক্ততা নিয়েও নগরজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।অন্যদিকে, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে গিয়ে ‘উই আর ভলান্টিয়ার’-এর সদস্যরা হামলার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। সংগঠনটির সদস্যদের দাবি, তারা শুধু শহরের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছেন।আহমেদুর রহমান তনু বলেন,শুধু কথা বললে হবে না, শহরের শৃঙ্খলা রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। যারা নারায়ণগঞ্জকে সুন্দর ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে দেখতে চান, তাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা চাই নতুন বাংলাদেশ গড়ার পাশাপাশি নতুনভাবে সাজুক নারায়ণগঞ্জও। এজন্য ফুটপাত মুক্ত রাখতে আমরা রাজপথে থাকবো।মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা বলেন,হকাররা সড়কে বসতে পারবে না। ফুটপাত মানুষের হাঁটার জন্য। যারা শহরকে আবারও জিম্মি করতে চাইবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। আমরা যতদিন আছি, ততদিন নারায়ণগঞ্জের ফুটপাত সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখবো।স্থানীয়দের মতে, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে নগরবাসী স্থায়ীভাবে স্বস্তি পাবে এবং শহরের শৃঙ্খলাও অনেকটাই ফিরে আসবে।