নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, অব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়নে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ৭২ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদারকির জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেন তিনি।রোববার (১৪ জুন) দেশের ১০টি জেলায় একযোগে আইসিইউ সেবা উদ্বোধনের অংশ হিসেবে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে এসে আকস্মিক পরিদর্শনে এসব নির্দেশনা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা আগে হাসপাতালে পৌঁছে তিনি বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং হাজিরা খাতা মিলিয়ে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের উপস্থিতি যাচাই করেন।পরিদর্শনের সময় কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার অনুপস্থিতি এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক অসংগতি তার নজরে আসে। পাশাপাশি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।সিভিল সার্জনের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, একটি হাসপাতালে মন্ত্রী, সচিব বা মহাপরিচালকের আগমন উপলক্ষে অন্তত ন্যূনতম পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা উচিত ছিল। তিনি সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে জানান, আগামী পরশুদিন পর্যন্ত সময় দেওয়া হলো, এর মধ্যে হাসপাতালের পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে হবে।এ সময় হাসপাতালের রান্নাঘরের পুরোনো ও অস্বাস্থ্যকর সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলতেও নির্দেশ দেন তিনি। বিশেষ করে কালো ও ব্যবহারের অনুপযোগী পাতিল জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে অপসারণের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এমন পরিবেশ গ্রহণযোগ্য নয়।স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, হাসপাতালের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থেকে জীবাণু ছড়িয়ে রোগীদের জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট ও জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়মের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের সেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।