সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপজয়ী নারায়ণগঞ্জের কৃতী ফুটবলার সানি দাস দেশে ফিরেই পেয়েছেন বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা। নিজ এলাকায় পৌঁছানোর পর পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও বন্ধুদের ভালোবাসায় আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।এ সময় কেউ তাকে জড়িয়ে ধরেন, কেউ প্রণাম করেন—ফলে পুরো এলাকা এক আনন্দঘন মিলনমেলায় পরিণত হয়।সানির এই সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেন তার পরিবারও। বাবা রাজ্জাক দাস ও চাচা নয়ন দাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। মা মুক্তা রানী ছেলেকে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করে নেন। পরে ব্যান্ড-পার্টির সুরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।হরিজন সম্প্রদায় থেকে উঠে এসে জাতীয় পর্যায়ে এমন সাফল্য অর্জন করায় সানি দাস এখন ব্যাপক আলোচনায়। ইনজুরির কারণে ফাইনাল খেলতে না পারলেও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তার পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়।এলাকায় পৌঁছে তিনি প্রথমে টানবাজার হরিজন কলোনির মন্দিরে প্রণাম করেন। পরে বঙ্গবীর একাডেমি ও কোচ আজমল হোসেন বিদ্যুতের উদ্যোগে একটি আনন্দ র্যালি বের হয়। ছাদখোলা গাড়িতে করে র্যালিটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জিমখানা মাঠে গিয়ে শেষ হয়।জিমখানা মাঠে তাকে ফুল ছিটিয়ে বরণ করেন একাডেমির খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা। নাচ-গান ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে পুরো অনুষ্ঠানটি উৎসবে পরিণত হয়।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এই একাডেমি থেকে অনেক খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়ে খেললেও হরিজন সম্প্রদায় থেকে সানি দাস প্রথম বড় সাফল্য অর্জন করেছেন। ভবিষ্যতে তিনি দেশের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে খেলার সুযোগ পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।সংবর্ধনায় সানি দাস বলেন, তিনি এভাবে সম্মাননা পাবেন তা কখনো ভাবেননি। তার স্বপ্ন জাতীয় দলে খেলা এবং এই অর্জনের পেছনে পরিবার, কোচ ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অবদান রয়েছে বলেও জানান তিনি।উল্লেখ্য, মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতকে টাইব্রেকারে হারিয়ে বাংলাদেশ টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয় করে।