কুয়েতে ড্রাইভার ভিসায় পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে খাদেম ভিসায় পাঠানো এবং অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. শফিকের বিরুদ্ধে।ভুক্তভোগী কুয়েত প্রবাসী জানান, ২০২৪ সালের ৬ ডিসেম্বর তার সঙ্গে ড্রাইভার ভিসায় কুয়েত পাঠানোর বিষয়ে চুক্তি হয়। এ জন্য ধাপে ধাপে তার কাছ থেকে ১১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে ২০২৫ সালের ৮ মার্চ তিনি কুয়েতে যান।তার দাবি, কুয়েতে যাওয়ার প্রায় এক বছর পর ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে গিয়ে জানতে পারেন, তাকে ড্রাইভার ভিসা নয়, খাদেম ভিসায় পাঠানো হয়েছে। এ ধরনের ভিসায় তিনি ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে পারবেন না। তার অভিযোগ, যে ভিসায় তাকে পাঠানো হয়েছে, তার প্রকৃত মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা, অথচ তার কাছ থেকে অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে।তিনি আরও অভিযোগ করেন, কুয়েতে পৌঁছানোর পর তার জন্য কাজের ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। প্রায় তিন মাস অভিযুক্তের বাসায় থাকার পর তাকে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে তিনি আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেন। কাজ না পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে টাকা এনে চলতে হয়েছে। এতে বর্তমানে তার প্রায় ১০ লাখ টাকার ঋণ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, বিষয়টি বাংলাদেশে জানানো হলে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হয়। সেখানে অভিযুক্ত বিদেশে পৌঁছানোর পর সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও পরে তা আর বাস্তবায়ন করেননি বলে অভিযোগ করা হয়।এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. শফিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "বর্তমানে কুয়েতে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলছে। তাই আমি তার কাজের ব্যবস্থা করে দিতে পারছি না।"এদিকে স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বক্তাবলী ইউনিয়নের মধ্যনগর গ্রামের এক যুবক এবং আলীরটেক ইউনিয়নের ডিক্রির চর গ্রামের এক যুবকের সঙ্গেও একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।