দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী রাইফেল ক্লাব পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের অনুমতি এবং ক্লাবের সিনিয়র সদস্যদের উদ্যোগে সংস্কার কাজ শেষে প্রতিষ্ঠানটিকে আবারও শুটিং ও ক্রীড়া কার্যক্রমের উপযোগী করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।জানা গেছে, চাষাঢ়া এলাকায় অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাব একসময় দেশের অন্যতম পরিচিত শুটিং ও ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্লাবটি কার্যত তৎকালীন সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময়ও ক্লাবটি আলোচনায় আসে। পরবর্তীতে আন্দোলনের এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ক্লাবে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করলে প্রতিষ্ঠানটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে।সম্প্রতি পদাধিকারবলে ক্লাবের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের অনুমতির পর পুনরায় ক্লাবটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিনিয়র সদস্যরা জানান, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে ক্লাবটিকে আগের চেয়ে আরও সুন্দর ও কার্যকরভাবে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের সিনিয়র সদস্য ও সাবেক শুটার এম এ সাত্তার ভুট্টু বলেন, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকে ক্লাবটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সংস্কারের মাধ্যমে পুনরায় চালুর অনুমতি পাওয়া গেছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের দখলে থাকা অংশ বাদ দিয়ে বাকি জায়গায় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশনের শর্ত অনুযায়ী রাইফেল ক্লাব সক্রিয় না থাকলে সদস্যপদও টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। এ বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করার পর তিনি ক্লাব চালুর অনুমতি দিয়েছেন।এম এ সাত্তার ভুট্টু বলেন, “রাইফেল ক্লাব কোনো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি ক্রীড়া ক্লাব। আমরা চাই এটি আগের চেয়ে আরও সুশৃঙ্খল ও সুন্দরভাবে পরিচালিত হোক এবং শুটিং ক্রীড়ার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখুক।”