নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শক্তিশালী বিরোধী দলকে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ধরা হলেও স্থানীয় বাস্তবতায় তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না—এমন অভিযোগই তুলছেন সচেতন মহল।
এর আগে নারায়ণগঞ্জে বিরোধী দল হিসেবে বিএনপির অবস্থান দুর্বল ছিল বলে সমালোচনা ছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই একই চিত্র নতুনভাবে ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন অনেকেই। জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে একটি আসনে বিরোধী জোটের প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ায় রাজনৈতিক ভারসাম্য আসবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার প্রভাব খুব একটা দৃশ্যমান হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা—যেমন যানজট, হকার ইস্যু, কিশোর গ্যাং, মাদক বিস্তার এবং নাগরিক সুবিধার ঘাটতি—এসব বিষয়ে বিরোধী দল জামায়াত ও এনসিপির কার্যকর কোনো ভূমিকা চোখে পড়ছে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নানা অভিযোগ থাকলেও এ বিষয়ে তাদের অবস্থানও তেমন সক্রিয় নয়।
এছাড়া ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ উঠলেও সেসব ইস্যুতে প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে দেখা যায়নি বিরোধী জোটের নেতাদের। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, বিরোধী দল আদৌ কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায় কিনা, নাকি তারা সীমিত পরিসরেই থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি সংকট, রাজনৈতিক সহিংসতা কিংবা বিভিন্ন বিতর্কিত ঘটনার ক্ষেত্রেও জামায়াত ও এনসিপির দৃশ্যমান প্রতিক্রিয়া ছিল না। মাঝেমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হালকা সমালোচনা থাকলেও শক্ত অবস্থান নিতে অনীহা লক্ষ্য করা গেছে বলে মন্তব্য স্থানীয়দের।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে ক্ষমতাসীনদের ওপর কার্যকর চাপ তৈরি হয় না, ফলে জবাবদিহিতার ঘাটতি তৈরি হতে পারে। নারায়ণগঞ্জের বর্তমান পরিস্থিতিও সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন বলে তারা মনে করছেন।
এদিকে বিরোধী দলের নিষ্ক্রিয়তায় সন্তুষ্টি দেখা যাচ্ছে ক্ষমতাসীন রাজনীতিতে। শক্ত প্রতিপক্ষের অভাবে রাজনৈতিক মাঠ অনেকটাই একপাক্ষিক হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
তবে সবচেয়ে বেশি হতাশ সেই ভোটাররা, যারা পরিবর্তনের আশায় বিরোধী প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছিলেন। তাদের অভিযোগ, প্রত্যাশা অনুযায়ী শক্ত অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছে বিরোধী জোট।
সচেতন মহলের মতে, গণতন্ত্রকে কার্যকর রাখতে হলে বিরোধী দলকে আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় হতে হবে। অন্যথায় রাজনৈতিক ভারসাম্যহীনতা বাড়বে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনেই পড়বে।

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শক্তিশালী বিরোধী দলকে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ধরা হলেও স্থানীয় বাস্তবতায় তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না—এমন অভিযোগই তুলছেন সচেতন মহল।
এর আগে নারায়ণগঞ্জে বিরোধী দল হিসেবে বিএনপির অবস্থান দুর্বল ছিল বলে সমালোচনা ছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই একই চিত্র নতুনভাবে ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন অনেকেই। জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে একটি আসনে বিরোধী জোটের প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ায় রাজনৈতিক ভারসাম্য আসবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার প্রভাব খুব একটা দৃশ্যমান হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা—যেমন যানজট, হকার ইস্যু, কিশোর গ্যাং, মাদক বিস্তার এবং নাগরিক সুবিধার ঘাটতি—এসব বিষয়ে বিরোধী দল জামায়াত ও এনসিপির কার্যকর কোনো ভূমিকা চোখে পড়ছে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নানা অভিযোগ থাকলেও এ বিষয়ে তাদের অবস্থানও তেমন সক্রিয় নয়।
এছাড়া ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ উঠলেও সেসব ইস্যুতে প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে দেখা যায়নি বিরোধী জোটের নেতাদের। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, বিরোধী দল আদৌ কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায় কিনা, নাকি তারা সীমিত পরিসরেই থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি সংকট, রাজনৈতিক সহিংসতা কিংবা বিভিন্ন বিতর্কিত ঘটনার ক্ষেত্রেও জামায়াত ও এনসিপির দৃশ্যমান প্রতিক্রিয়া ছিল না। মাঝেমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হালকা সমালোচনা থাকলেও শক্ত অবস্থান নিতে অনীহা লক্ষ্য করা গেছে বলে মন্তব্য স্থানীয়দের।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে ক্ষমতাসীনদের ওপর কার্যকর চাপ তৈরি হয় না, ফলে জবাবদিহিতার ঘাটতি তৈরি হতে পারে। নারায়ণগঞ্জের বর্তমান পরিস্থিতিও সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন বলে তারা মনে করছেন।
এদিকে বিরোধী দলের নিষ্ক্রিয়তায় সন্তুষ্টি দেখা যাচ্ছে ক্ষমতাসীন রাজনীতিতে। শক্ত প্রতিপক্ষের অভাবে রাজনৈতিক মাঠ অনেকটাই একপাক্ষিক হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
তবে সবচেয়ে বেশি হতাশ সেই ভোটাররা, যারা পরিবর্তনের আশায় বিরোধী প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছিলেন। তাদের অভিযোগ, প্রত্যাশা অনুযায়ী শক্ত অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছে বিরোধী জোট।
সচেতন মহলের মতে, গণতন্ত্রকে কার্যকর রাখতে হলে বিরোধী দলকে আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় হতে হবে। অন্যথায় রাজনৈতিক ভারসাম্যহীনতা বাড়বে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনেই পড়বে।

আপনার মতামত লিখুন