দেশের অন্যতম শিল্প ও বাণিজ্যকেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ আজ অব্যবস্থাপনা, দূষণ ও দুর্নীতির চক্রে জর্জরিত। শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত হলেও এখানকার সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন তেমন হয়নি; বরং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য দিন দিন হুমকির মুখে পড়ছে।
এই অঞ্চলের অর্থনীতি মূলত শিল্পকারখানার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নেই কোনো কার্যকর পরিকল্পনা বা নিয়ন্ত্রণ। ফলে শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী নদী মারাত্মক দূষণের শিকার হয়ে পড়েছে। বিষাক্ত বর্জ্যে নদীর পানি কালো হয়ে গেছে, বাতাসে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ—যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনকেও কঠিন করে তুলছে।
অভিযোগ রয়েছে, পরিকল্পিতভাবে নদীগুলোকে দূষিত ও অকার্যকর করে সাধারণ মানুষকে নদীবিমুখ করা হচ্ছে। এর সুযোগে প্রভাবশালী মহল দখল করছে নদীর তীর ও ভেতরের অংশ। বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজার দিয়ে বালু ফেলে নদী ভরাটের ঘটনাও প্রকাশ্যে ঘটছে, কিন্তু প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই।
বিভিন্ন সময়ে জরিপে দেখা গেছে, গত কয়েক বছরে ধলেশ্বরী নদীর বিশাল অংশ দখল হয়ে গেছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, কমে যাচ্ছে প্রশস্ততা। ফলে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। একইসঙ্গে নদীনির্ভর জীবিকাও হুমকির মুখে পড়েছে—বিশেষ করে জেলেরা তাদের আয়ের পথ হারাচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নদী দখল ও দূষণের পেছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে, যার সঙ্গে বিভিন্ন স্তরের প্রভাবশালী মহল জড়িত। ফলে এই সমস্যা দীর্ঘদিনেও সমাধান হচ্ছে না।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। বিআইডব্লিউটিএ, জেলা প্রশাসন ও নদী রক্ষা কমিশনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দখলদারদের উচ্ছেদ এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হয়ে নদী রক্ষায় সোচ্চার হতে হবে।
কারণ নদী শুধু প্রকৃতির অংশ নয়, এই অঞ্চলের জীবন-জীবিকার অন্যতম ভিত্তি। নদী রক্ষা করা না গেলে নারায়ণগঞ্জের ভবিষ্যৎও হুমকির মুখে

মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মার্চ ২০২৬
দেশের অন্যতম শিল্প ও বাণিজ্যকেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ আজ অব্যবস্থাপনা, দূষণ ও দুর্নীতির চক্রে জর্জরিত। শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত হলেও এখানকার সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন তেমন হয়নি; বরং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য দিন দিন হুমকির মুখে পড়ছে।
এই অঞ্চলের অর্থনীতি মূলত শিল্পকারখানার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নেই কোনো কার্যকর পরিকল্পনা বা নিয়ন্ত্রণ। ফলে শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী নদী মারাত্মক দূষণের শিকার হয়ে পড়েছে। বিষাক্ত বর্জ্যে নদীর পানি কালো হয়ে গেছে, বাতাসে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ—যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনকেও কঠিন করে তুলছে।
অভিযোগ রয়েছে, পরিকল্পিতভাবে নদীগুলোকে দূষিত ও অকার্যকর করে সাধারণ মানুষকে নদীবিমুখ করা হচ্ছে। এর সুযোগে প্রভাবশালী মহল দখল করছে নদীর তীর ও ভেতরের অংশ। বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজার দিয়ে বালু ফেলে নদী ভরাটের ঘটনাও প্রকাশ্যে ঘটছে, কিন্তু প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই।
বিভিন্ন সময়ে জরিপে দেখা গেছে, গত কয়েক বছরে ধলেশ্বরী নদীর বিশাল অংশ দখল হয়ে গেছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, কমে যাচ্ছে প্রশস্ততা। ফলে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। একইসঙ্গে নদীনির্ভর জীবিকাও হুমকির মুখে পড়েছে—বিশেষ করে জেলেরা তাদের আয়ের পথ হারাচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নদী দখল ও দূষণের পেছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে, যার সঙ্গে বিভিন্ন স্তরের প্রভাবশালী মহল জড়িত। ফলে এই সমস্যা দীর্ঘদিনেও সমাধান হচ্ছে না।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। বিআইডব্লিউটিএ, জেলা প্রশাসন ও নদী রক্ষা কমিশনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দখলদারদের উচ্ছেদ এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হয়ে নদী রক্ষায় সোচ্চার হতে হবে।
কারণ নদী শুধু প্রকৃতির অংশ নয়, এই অঞ্চলের জীবন-জীবিকার অন্যতম ভিত্তি। নদী রক্ষা করা না গেলে নারায়ণগঞ্জের ভবিষ্যৎও হুমকির মুখে

আপনার মতামত লিখুন