বি পি নিউজ ২৪

ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের মদনপুরে মাহিদ ভূইয়ার নেতৃত্ব শেখ হাসিনার পক্ষে মশাল মিছিল, গ্রেফতার করতে পারছে না পুলিশ



ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের মদনপুরে মাহিদ ভূইয়ার নেতৃত্ব শেখ হাসিনার পক্ষে মশাল মিছিল, গ্রেফতার করতে পারছে না পুলিশ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর এলাকায় সম্প্রতি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন বন্দর উপজেলার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাহিদ ভূইয়া।

স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী এই নেতা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ছাত্রলীগের একজন দাপুটে ও সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলনের বিপরীতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে, বিশেষ করে শান্তি সমাবেশে, মাহিদ ভূইয়া শত শত নেতাকর্মী নিয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তার নেতৃত্বে বিশাল শোডাউন ও মোটরসাইকেল মহড়া সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলেও মাহিদ ভূইয়ার প্রভাব পুরোপুরি কমেনি। কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর তিনি আবারও এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি মদনপুরের কেওঢালা থেকে জাঙ্গাল বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত অনুষ্ঠিত একটি মশাল মিছিলে তার নেতৃত্বের অভিযোগ উঠেছে, যেখানে শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান দেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, অভিযোগ রয়েছে যে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কেওঢালা ও মদনপুর এলাকায় মাহিদ ভূইয়ার নেতৃত্বে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হন এবং দুইজন গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধদের একজন আল আমিন (১৭), যিনি মদনপুর রিয়াজুল উলুম আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।

আহত আল আমিন জানান, সেদিন সকাল থেকেই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মদনপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান করছিলেন। পরে তারা মিছিল নিয়ে কেওঢালা এলাকায় পৌঁছালে মাহিদ ভূইয়ার নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী তাদের ওপর হামলা চালায় এবং গুলি ছোড়ে। এছাড়া আন্দোলনকারীদের সহযোগিতা করার অভিযোগে স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দিকের প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরকার পতনের পর এলাকা ছেড়ে চলে গেলেও বর্তমানে মাহিদ ভূইয়া পুনরায় সক্রিয় হয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। সাম্প্রতিক বিভিন্ন মশাল মিছিলসহ আওয়ামী লীগের নানা কর্মসূচির পেছনে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।

সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে একাধিক অভিযোগ ও মামলা থাকার পরও এখনো তাকে গ্রেফতার করতে না পারা। স্থানীয়দের প্রশ্ন, নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন মাহিদ ভূইয়াকে আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না?

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মদনপুরে তার প্রকাশ্য সক্রিয়তা এবং শেখ হাসিনার পক্ষে মশাল মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে উঠেছে সমালোচনা কেন এখনো তাকে গ্রেফতার করা যাচ্ছে না, তা নিয়ে সংশয় ও উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

ফলে পুরো বিষয়টি ঘিরে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬


ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের মদনপুরে মাহিদ ভূইয়ার নেতৃত্ব শেখ হাসিনার পক্ষে মশাল মিছিল, গ্রেফতার করতে পারছে না পুলিশ

প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর এলাকায় সম্প্রতি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন বন্দর উপজেলার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাহিদ ভূইয়া।


স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী এই নেতা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ছাত্রলীগের একজন দাপুটে ও সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলনের বিপরীতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে, বিশেষ করে শান্তি সমাবেশে, মাহিদ ভূইয়া শত শত নেতাকর্মী নিয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তার নেতৃত্বে বিশাল শোডাউন ও মোটরসাইকেল মহড়া সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।


পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলেও মাহিদ ভূইয়ার প্রভাব পুরোপুরি কমেনি। কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর তিনি আবারও এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি মদনপুরের কেওঢালা থেকে জাঙ্গাল বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত অনুষ্ঠিত একটি মশাল মিছিলে তার নেতৃত্বের অভিযোগ উঠেছে, যেখানে শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান দেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, অভিযোগ রয়েছে যে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কেওঢালা ও মদনপুর এলাকায় মাহিদ ভূইয়ার নেতৃত্বে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হন এবং দুইজন গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধদের একজন আল আমিন (১৭), যিনি মদনপুর রিয়াজুল উলুম আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।


আহত আল আমিন জানান, সেদিন সকাল থেকেই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মদনপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান করছিলেন। পরে তারা মিছিল নিয়ে কেওঢালা এলাকায় পৌঁছালে মাহিদ ভূইয়ার নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী তাদের ওপর হামলা চালায় এবং গুলি ছোড়ে। এছাড়া আন্দোলনকারীদের সহযোগিতা করার অভিযোগে স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দিকের প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।


সরকার পতনের পর এলাকা ছেড়ে চলে গেলেও বর্তমানে মাহিদ ভূইয়া পুনরায় সক্রিয় হয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। সাম্প্রতিক বিভিন্ন মশাল মিছিলসহ আওয়ামী লীগের নানা কর্মসূচির পেছনে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।


সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে একাধিক অভিযোগ ও মামলা থাকার পরও এখনো তাকে গ্রেফতার করতে না পারা। স্থানীয়দের প্রশ্ন, নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন মাহিদ ভূইয়াকে আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না?

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মদনপুরে তার প্রকাশ্য সক্রিয়তা এবং শেখ হাসিনার পক্ষে মশাল মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে উঠেছে সমালোচনা কেন এখনো তাকে গ্রেফতার করা যাচ্ছে না, তা নিয়ে সংশয় ও উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।


ফলে পুরো বিষয়টি ঘিরে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ