নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বিএনপি’র অনলাইন একটিভিস্ট নেটওয়ার্ক এর উদ্যোগে আয়োজিত অফিসিয়াল এক ভার্চ্যুয়াল মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মতবিনিময় সভা পরিচালনা করেন বিএনপির অনলাইন একটিভিস্ট নেটওয়ার্ক টিমের প্রধান, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক একেএম ওয়াহিদুজ্জামান এপোলো। কো-হোস্ট হিসেবে সহযোগিতায় ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাইবার ইউজার দল (বিএনসিইউপি)’র কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব আশিক ইসলাম এবং বিএনপি’র কেন্দ্রীয় আইসিটি বিভাগ ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের নেতৃবৃন্দ।
উক্ত সভার শুরুতেই দেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম সাইবার রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাইবার ইউজার দল (বিএনসিইউপি) কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির গণঅভ্যুত্থানঃ২০২৪ ডক্যুমেন্টেশন উপ-কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি নেতা এস. আলম রাজীব। বক্তব্যের এক পর্যায়ে এস. আলম রাজীব স্মৃতিচারণ করে বলেন, যেহেতু আমার হোমটাউন নারায়ণগঞ্জ এবং ছোটবেলা থেকেই জাতীয়তাবাদী আদর্শ বুকে ধারণ করে রাজপথে থেকেই রাজনীতির অভিষেক, সেই কারণে ফ্যাসিস্ট শাসনামলের শুরু ২০১০ থেকে টানা দীর্ঘ ১৪ বছর ২০২৪ পর্যন্ত আওয়ামী প্রতিহিংসার রাজনীতি তথা ওসমান পরিবারের রোষানলের শিকার হয়ে নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়। তিনি আরো বলেন, নির্বাসিত থেকেও দলের হয়ে সাইবার প্লাটফর্ম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দলের জন্য তিনি কাজ করে গিয়েছেন, তৎকালীন তারেক রহমান ঘোষিত ‘ডিজব্যান্ড র্যাব’ কর্মসূচিতে এস. আলম রাজীবের নেতৃত্বে ১০ হাজার গণস্বাক্ষর জমা এবং বিএনপি’র তৎকালীন চেয়ারপার্সন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে বালুরট্রাক দিয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী কর্তৃক গুলশানের বাড়িতে যখন অবরুদ্ধ করা হয় তখন প্রবাসে থেকেও এস. আলম রাজীব ফেনীতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকেন, যা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সংগঠনের নেতাকর্মীরা সফল করেন। এছাড়া তিনি বিগত দিনে দলের এই সাইবার উইংগুলো দলের ভিতরে ও বাইরে থেকে ভূইফোঁড় আখ্যা পাওয়ার বিষয়টিও তারেক রহমানের কাছে তুলে ধরেন এবং বলেন এরপরও আমরা আমাদের কার্যক্রম অবিরত রেখে দলের জন্য সর্বোচ্চটুকু করে যেতে সচেস্ট ছিলাম, যা আপনি অবগত আছেন।
নারায়ণগঞ্জের সন্তান এস. আলম রাজীবই সর্বপ্রথম বিগত দিনে সকল জাতীয়তাবাদী সাইবার যোদ্ধাদের এক পতাকাতলে এনে বিএনপির প্রযুক্তিনির্ভর সহযোগী শক্তি বা বিকল্প মিডিয়া হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এই সংগঠন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। তার এই কাজের মূল্যায়ন করলেন স্বয়ং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্ঠে। তিনি জাতীয়তাবাদী অনলাইন একটিভিস্টদের কার্যক্রমের প্রশংসা করে কৃতজ্ঞতার সহিত ধন্যবাদ জানান। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন,
আপনারা এতো নির্যাতন, নির্বাসন, হামলা-মামলার শিকার হয়ে দলের ক্রান্তিলগ্নে দলকে ছেড়ে যাননি, আপনারা অনেক কঠিন একটি সময় পাড় করে আজকের এই জায়গায় এসে পৌঁছেছেন। আগামীতে আবারও দীর্ঘ সময় আরো বড় পরিসরে আলোচনা করার প্রত্যাশা রেখে বক্তব্য। তারেক রহমান তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, সাইবার যোদ্ধাদের সোচ্চার থাকার কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতেও ব্যর্থ হচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা এবং বর্তমানে অনলাইনে জাতীয়তাবাদীদের অবস্থান ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
এই ভার্চুয়াল মিটিং-এ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাইবার ইউজার দল (বিএনসিইউপি)’র দেশের ও প্রবাসী কমিটির শতশত নেতাকর্মীরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য জাতীয়তাবাদী আদর্শের সাইবার সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও সাইবার এক্টিভিস্টগণ।
উল্লেখ্য, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর এই প্রথম কোনো সংগঠনকে মূল্যায়ন করে শত ব্যস্ততা এবং কিছুটা শারীরিক অসুস্থ অবস্থায়ও ঘন্টাব্যাপী মনোযোগ সহকারে সকলের কথা শুনেন এবং গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এতে জাতীয়তাবাদী সাইবার এক্টিভিস্টদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গিয়েছে।



















