বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে এ ধরনের কথা সম্পূর্ণ ভাঁওতাবাজি। তিনি বলেন, “বিকাশ নম্বর কাউকে দেবেন না। ভোট দিলে নাকি জান্নাতে যাওয়া যাবে—এসব কথা সঠিক নয়। ভোট দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে হবে।”
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের পশ্চিম আকচা এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগে এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫–১৬ বছরে দেশে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ব্যাংকগুলো শূন্য হয়ে গেছে, দেশের টাকা লুটপাট হয়ে বিদেশে পাচার হয়েছে। এসব পরিস্থিতি থেকে দেশকে উদ্ধার করতে হলে ঝগড়াঝাঁটি নয়, বরং যোগ্য ও সৎ মানুষকে নির্বাচিত করতে হবে।
স্বাধীনতাবিরোধীদের হাতে দেশ নিরাপদ নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আরেকটি দল ভোটের রাজনীতিতে এসেছে, যাদের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা। ১৯৭১ সালে তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল না। তারা বহু মানুষ হত্যা ও নারী নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিল, অথচ আজও এসব অপরাধের জন্য ক্ষমা চায়নি।”
বিএনপির মহাসচিব বলেন, বিএনপি রাজনীতি করে দেশের মানুষের উন্নতি ও শান্তির জন্য। বিগত সময়ে মানুষ শান্তিতে থাকতে পারেনি। তবে এখন একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আশা তৈরি হয়েছে, যেখানে সবাই ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে।
নিজের প্রার্থিতা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের পাশে ছিলেন। তাঁর বাবা এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, “আমি মন্ত্রী ছিলাম, কিন্তু কেউ বলতে পারবে না যে এক কাপ চাও খেয়েছি। দলের পক্ষ থেকে আমি প্রার্থী। ভোট চাইতে এসেছি। প্রতীক ধানের শীষ। এটি আমার শেষ নির্বাচন আপনারা আমাকে কাজ করার সুযোগ দিন।”
বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মাফ করা হবে। এনজিও ঋণের দায় সরকার নেবে। মায়েদের ঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষিত বেকারদের জন্য ১৮ মাসে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে এবং সব ধর্মের মানুষ নিরাপদে বসবাস করবে।



















