স্টাফ রিপোর্টারঃ আহমেদুর রহমান তনু ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) কেন্দ্রীয় সদস্য এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার যুগ্ম সমন্বয়ক। গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে তাকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে সাময়িক অব্যাহতি ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কেন তাকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না, তা জানতে শোকজও করা হয়েছে।
এ সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে আহমেদুর রহমান তনুকে দলের সকল দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আরও জানানো হয়, এ সিদ্ধান্ত দলটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে কার্যকর করা হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, কেন তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না—সে বিষয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান বরাবর লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে এনসিপির সদস্য আহমেদুর রহমান তনুর বিরুদ্ধে পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
দলীয় সূত্রে আরও জানা যায়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন-এর পক্ষে প্রত্যাশিত প্রচার-প্রচারণায় অংশ না নেওয়ার অভিযোগ ওঠে আহমেদুর রহমান তনুর বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে, নির্বাচনী সময়ে তার মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান তৎপরতা ছিল না। সক্রিয় ভূমিকা না রাখাই ছিল শৃঙ্খলাভঙ্গের মূল কারণ।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ – ৫ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন আহমেদুর রহমান তনু।
তবে ভোটের আগমুহূর্তে হঠাৎ তিনি নির্বাচন করবেন না বলে ঘোষণা দিয়ে সড়ে দাঁড়ান। যা সে সময় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। পারিবারিক যোগসূত্র নিয়ে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলে তুমুল।
প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জ – ৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। তিনি আহমেদুর রহমান তনুর শ্বশুর। তবে শ্বশুরের কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন কিনা এরকম কথা তিনি কোথাও উল্লেখ না করলেও সেটা আর বুঝতে কারোও বাকি থাকেনি সে সময়। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে নানা ব্যাখ্যা ও আলোচনা চলেছে অনেকদিন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে শুরু থেকেই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে জোটগত সমন্বয় ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা ছিল আলোচনায়।
এই নির্বাচনে আহমেদুর রহমান তনুর পথেই হেঁটেছেন আরও একজন যিনি বন্দর উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) প্রধান সমন্বয়কারী আশিকুর রহমান চৌধুরী অভি। যিনি সম্পর্কে তনুর শ্যালক। তিনিও তনুর মতই ছিলেন পুরো নির্বাচন জুড়ে নিস্ক্রিয়। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন-এর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় তার কোনো উল্লেখযোগ্য চোখে পড়ার মত ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়নি। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি (সদর ও বন্দর) ২ টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। যেখানে আশিকুর রহমান চৌধুরী অভি
বন্দর উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) প্রধান সমন্বয়কারী হওয়া সত্যেও জোট প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুনকে নির্বাচন জুড়ে কোনো সহায়তা করেননি এবং তার পক্ষেও সেভাবে মাঠে কোনো কাজ করতে দেখা যায়নি তাকে।
এই আশিকুর রহমান চৌধুরী অভির ব্যাকগ্রাউন্ড অনুসন্ধান করে মিলে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য তিনি অ্যাডভোকেট আবুল কালামের সম্পর্কে ভাতিজা। আশিকুর রহমান চৌধুরী অভির আপন ফুফা হচ্ছেন অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। আশিকুর রহমান চৌধুরী অভি ছোটো বেলা থেকেই ফুফা আবুল কালাম ও ফুফাতো ভাই আবুল কাউসার আশার হাত ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির অঙ্গ সংগঠন ছাত্রদলের একটিভ কর্মী হিসেবে রাজনীতি করেছেন। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) আত্মপ্রকাশ হলে দুলাভাই আহমেদুর রহমান তনু বনে যান এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আর তার হাত ধরেই আশিকুর রহমান চৌধুরী অভি হয়ে যান বন্দর উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) প্রধান সমন্বয়কারী।
এ নিয়ে বন্দর উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) তৃনমূলের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নেতৃত্বে এনসিপি থাকলেও বন্দর উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) প্রধান সমন্বয়কারী আশিকুর রহমান চৌধুরী অভি জোট প্রার্থী সিরাজুল মামুনের পক্ষে সেভাবে মাঠে কোনো কাজ করেননি এমনকি সিরাজুল মামুনকে বিজয়ী করতে সাংগঠনিক কোনো ধরনের কার্যক্রম বা দিকনির্দেশনা দেননি। পুরো নির্বাচন জুড়ে ২-১ টি প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন নাম মাত্র শুধু ফটোসেশানের জন্য। কার্যত গুরুত্বপূর্ন দ্বায়িত্বে থাকা সত্বেও জোট প্রার্থীর পক্ষে কোনো ভূমিকা ছিলো না তার। তাই জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষন করছি আহমেদুর রহমান তনুর মতই যেনো তার বিরুদ্ধে ও সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এনসিপি নিজেদের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা জোরদারে কঠোর অবস্থান নিতে চাইছে। কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ সেই বার্তাই বহন করছে। এখন দেখার বিষয়—আহমেদুর রহমান তনুর মতই আশিকুর রহমান চৌধুরী অভির বিরুদ্ধে দল পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কী সিদ্ধান্ত নেয়।



















