আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ–সোনারগাঁও) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বিএনপির মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মিজমিজি দক্ষিণপাড়া এলাকায় আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দলের মনোনয়ন বাছাইয়ে যোগ্য ও শিক্ষিত নেতাদের উপেক্ষা করা হয়েছে। তার ভাষ্য, “আমাদের মধ্যে সাতজন এমএ পাস রয়েছে। অথচ একজনকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। বরং মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এমন একজনকে, যিনি মাত্র নাম লেখা শিখেছেন।”
গিয়াসউদ্দিন বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রাজনীতির পথ উন্মুক্ত রাখতেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, শিক্ষিত ও সচেতন মানুষের পরিবর্তে অযোগ্যদের জনপ্রতিনিধি বানানো হলে ভবিষ্যতে নতুন নেতৃত্ব তৈরির সুযোগ নষ্ট হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে সাধারণ মানুষের জন্য রাজনীতির পথ উন্মুক্ত থাকবে এবং আগামী দিনে যোগ্য ব্যক্তিরা নিজ নিজ দল থেকে মনোনয়ন চেয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
বিএনপির দলীয় প্রার্থীকে ইঙ্গিত করে গিয়াসউদ্দিন বলেন, একটি পরিবারভিত্তিক রাজনীতির ধারা তৈরি হলে সাধারণ কর্মীদের কোনো জায়গা থাকবে না। তিনি নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক সচেতনতা ও প্রজ্ঞা কাজে লাগিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, এই নির্বাচনে ভুল সিদ্ধান্তের মূল্য ভবিষ্যতে দিতে হতে পারে।
এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থী শীতলক্ষ্যার পশ্চিম পাড়ের বাসিন্দাদের ‘সন্ত্রাসী’ বলে যে মন্তব্য করেছেন, তা সোনারগাঁওবাসীর জন্য চরম অবমাননাকর। এই অপমানের প্রতিবাদেই তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে জানান।
গিয়াসউদ্দিন বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জের মানুষের সম্মান রক্ষায় নির্বাচন করা তার দায়িত্ব ও কর্তব্য। তিনি বলেন, “সিদ্ধিরগঞ্জের মানুষকে গালি দেওয়া হবে আর আমি চুপ থাকব তা হতে পারে না।”
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে এবং ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত পথসভায় আরও বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা।



















