বন্দরের মদনপুরের কেওঢালা এলাকার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও মদনপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক জসিম মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। মদনপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার উপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও মদনপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী জসিম মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হলেও সে সময় জসিমের অন্যতম সহযোগী এবং তার আপন ছোটো ভাই বর্তমানে যুবদল নেতা সাজার চেষ্টাকারী মদনপুর ইউনিয়ন সাবেক ৩ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জহির মোল্লাকে এখনো গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম
ও বন্দরে স্বৈরাচার সরকারের অন্যতম দোসর নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি মাকসুদ ও তার ছেলে শুভর অন্যতম সহযোগী মদনপুর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা জহির মোল্লার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অভিযোগের যেন শেষ নেই। দীর্ঘদিন সালাম চেয়ারম্যান ও মাকসুদ চেয়ারম্যান এবং তার ছেলে শুভর প্রভাব খাঁটিয়ে ধরাকে সরাজ্ঞান করে বন্দরের মদনপুর ইউনিয়নে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল মদনপুর ইউনিয়নের কেওঢালা এলাকার জাতীয় পার্টির নেতা আলী আক্কাসের ছেলে জহির মোল্লা।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের পর থেকেই জহির মোল্লা দল পাল্টিয়ে বিএনপির নেতা হবার চেষ্টা করছিলেন। নিজেকে যুবদলের নেতা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় মানুষের বাড়ি-ঘর দখল ও চাঁদাবাজি করে বেড়াচ্ছেন। যার মধ্যে মদনপুর কেওঢালা মুসলিম পাড়া এলাকার মোক্তার আহম্মেদের বসতবাড়িটি জহির মোল্লা বর্তমানে দখল করে রেখেছে। সেই বাড়ি থেকে প্রতি মাসে ভাড়া তুলেন জহির মোল্লা। এছাড়াও ঐ এলাকার অনেকের মাছের প্রজেক্ট জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন জহির মোল্লা। এই আওয়ামীলীগের দোসর জহির মোল্লার পুরা পরিবার ছিলো আওয়ামীলীগের দালাল। তার বাবা ছিলো জাতীয়পার্টির নেতা। বিগত সময় এই জহির মোল্লা আওয়ামীলীগের নেতাদের সাথে থেকে অনেক অপকর্ম করেছে।
এই জহির মোল্লা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সে মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, জোরপূর্বক জমি দখল ও জমির মাটি বিক্রি করা সহ নানান রকমের অপকর্মে জড়িত ছিলো। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার এর পতন তথাপি শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার আগেই নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে পালিয়ে যায় ওসমান পরিবারের সকল সদস্য। তবে এখনো পর্যন্ত নিজ এলাকাতেই অবস্থান করছেন সালাম চেয়ারম্যানের অন্যতম সহযোগী মদনপুর ইউনিয়ন সাবেক ৩ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক
জহির মোল্লা এবং সালাম চেয়ারম্যানের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন।
এমন কি ছাত্র জনতার বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন চলাকালীন সময় সালাম চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে মদনপুরে আন্দোলনকারীদের উপর যে হামলা হয়েছে সেই হামলায় সালাম চেয়ারম্যানের সাথে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন এই জহির মোল্লা।
এদিকে মদনপুরে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনকারীদের উপর হামলায় ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও মদনপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী জসিম মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হলেও সে সময় তার অন্যতম সহযোগি জহির মোল্লাকে গ্রেপ্তার না করায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী।




















