ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের ভোটের সামগ্রিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জেলায় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নির্বাচনে জেলার গড় ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৫৭ শতাংশ।
জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২৩ লাখ ৯২ হাজার ৩৭১ জন। এর মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ১৩ লাখ ৭৯ হাজার ৩৪১ জন। বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ৩৯৫টি।
আসনভিত্তিক হিসাবে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে ভোটার ৪ লাখ ৮ হাজার ৮২৯ জন, নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯ জন, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ–সোনারগাঁ) আসনে ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৩৪৬ জন, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে ৫ লাখ ৪০ হাজার ৮১৩ জন এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর–বন্দর) আসনে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ২৮৪ জন।
দলভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপি পেয়েছে ৫ লাখ ৫০ হাজার ৮৪৮ ভোট, যা মোট বৈধ ভোটের ৪০ দশমিক ৮৫ শতাংশ। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৩ লাখ ৭ হাজার ৬৬২ ভোট, যা ২২ দশমিক ৮১ শতাংশ।
এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ১৭১ ভোট (৭.৮৭ শতাংশ)। খেলাফত মজলিস পেয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ১৯৬ ভোট (৭.৫০ শতাংশ)। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে ১ হাজার ৯৯৩ ভোট।
অন্য দলগুলোর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পেয়েছে ৫১ হাজার ১২৮ ভোট, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ৮০ হাজার ৬১৯ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৭০১ ভোট।
ছোট দলগুলোর মধ্যে কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), এবি পার্টি, রিপাবলিকান পার্টি, সুপ্রিম পার্টি, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, গণসংহতি আন্দোলন, জনতার দল, খেলাফত আন্দোলন ও মুক্তিজোট বিভিন্ন সংখ্যক ভোট পেয়েছে।
নির্বাচনী সমঝোতার কারণে কয়েকটি আসনে প্রধান দলগুলো সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় না থাকায় মোট ভোটের চিত্রে প্রভাব পড়েছে। বিএনপি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জোটগত কারণে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থীকে ছাড় দেয়। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে খেলাফত মজলিসকে সমর্থন দেয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব আসন সমঝোতা না থাকলে বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলের মোট ভোটের পরিমাণ আরও বাড়তে পারত।




















