নারায়ণগঞ্জ মহানগর ২৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রমযান আলীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা, দখল ও প্রভাব বিস্তারসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, রমযান আলী অতীতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ২৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম ওরফে গরু সিরাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মিছিল, মিটিং ও কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে সখ্যতা রেখে তিনি বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িত ছিলেন।
এছাড়াও বন্দরে স্বৈরাচার সরকারের অন্যতম দোসর হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি মাকসুদের সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম ও কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন রমযান আলী, যার ছবি গণমাধ্যমের কাছে রয়েছে।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর রমযান আলী বিএনপির নাম ব্যবহার করে বন্দর উপজেলার উত্তরাঞ্চল, ধামগড়, মদনপুর ইউনিয়ন এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও দখল কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য বর্তমানে তার দখলে চলে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, মদনপুরে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা অহিদুজ্জামান অহিদকে গত ১ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করা হলে তাকে ছাড়ানোর জন্য রমযান আলী তদবির করেন। এমনকি ৫ আগস্টের পরও তিনি ওই যুবলীগ নেতাকে আশ্রয় দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অহিদুজ্জামানের নিয়ন্ত্রিত AHB ইটভাটা, কুড়িপাড়া থেকে মদনপুর রহমানিয়া কলেজ পর্যন্ত ড্রেজার কার্যক্রম এবং মদনপুর ফুলহর কোরবানির পশুর হাটসহ বিভিন্ন ব্যবসা খাতে বর্তমানে রমযান আলীর প্রভাব রয়েছে।
এসব অভিযোগের কারণে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ২৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী-সমর্থকরা চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভে ফুঁসছেন এবং রমযান আলীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন।
এ বিষয়ে তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, তারা কেন্দ্রীয় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বসহ নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ২৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রমযান আলীর বিরুদ্ধে কঠোর ও সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।


















