নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থিতা অবৈধ বলে অভিযোগ করেছেন একই আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত ও সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা শাহজাহান শিবলী।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হামছাদী এলাকায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উপজেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের সামনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে শাহজাহান শিবলী বলেন, জামায়াতের প্রার্থী দাবি করা ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া পরিকল্পিতভাবে সাধারণ ভোটারদের বিভ্রান্ত ও বিব্রত করছেন। নিজেকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক রাজনৈতিক আচরণ।
তিনি বলেন, ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া প্রথমে কেন্দ্রীয় নির্দেশনার কথা বলে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কথা জানালেও পরে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে নির্ধারিত সময়ে জেলা নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে উপস্থিত হতে পারেননি। পরবর্তীতে তিনি নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। অথচ বর্তমানে আবার নিজেকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দাবি করে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন।
শাহজাহান শিবলী আরও বলেন, ১১ দলীয় জোট লিখিতভাবে তাকে মনোনয়ন দিয়েছে এবং সেই বৈধ কাগজপত্র তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। বিপরীতে ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়ার কাছে কোনো লিখিত অনুমোদন নেই। তিনি কোনোভাবেই ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নন; বরং তিনি একজন অবৈধ ও বিদ্রোহী প্রার্থী।
তিনি অভিযোগ করেন, ড. ইকবাল হোসেন একাধিকবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে আবার ভিন্ন পরিচয়ে মাঠে নামছেন। এর মাধ্যমে তিনি ১১ দলীয় জোটকে জনসমক্ষে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন, যা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন।
শাহজাহান শিবলী আরও বলেন, সম্প্রতি চিটাগাংরোড এলাকায় অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের এক সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ড. ইকবাল হোসেনকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন। এটি জামায়াতের একতরফা সিদ্ধান্ত, যার সঙ্গে ১১ দলীয় জোটের কোনো সম্পর্ক নেই।
তিনি নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। ১১ দলীয় জোটের একমাত্র বৈধ ও মনোনীত প্রার্থী আমি। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে জোটের রিকশা প্রতীককে বিজয়ী করতে একসঙ্গে কাজ করুন।
এ বিষয়ে ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, কেন্দ্র থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্দেশনা পেয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তা প্রত্যাহার করেন। তবে পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীরের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে পুনরায় প্রার্থিতা বহাল রেখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী তিনি বর্তমানে নিয়মতান্ত্রিকভাবেই নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন বলে দাবি করেন।



















