নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর–বন্দর) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে আলোচনায় উঠে আসছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তারিকুল ইসলাম সুজন। ‘মাথাল’ প্রতীক নিয়ে মাঠে থাকা এ প্রার্থী প্রচারণায় ভিন্নধর্মী কৌশল অবলম্বন করেছেন। তিনি এলাকাজুড়ে ঘুরে সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন, তাদের সমস্যার কথা শুনছেন এবং নির্বাচিত না হলেও নাগরিক ইস্যুতে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
তার প্রচারণায় যুক্ত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের কয়েকজন পরিচিত মুখ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জুলাই আন্দোলনের আলোচিত কর্মী ফারহানা মানিক মুনা, খানপুর এলাকার ক্রীড়া ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আলমগীর হোসেন এবং আইইটি স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থীসহ জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় একদল তরুণ-তরুণী।
সাংগঠনিক জীবনে তারিকুল সুজনের যাত্রা শুরু ১৯৯৬ সালে, কিল্লারপুলের কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতি সংসদের মাধ্যমে। এরপর পাঠাগার কার্যক্রম, স্কাউটিং, পত্রিকা সম্পাদনা ও পথশিশুদের শিক্ষা উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন। আইইটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছাত্ররাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। পরে ২০০৫ সালে নারায়ণগঞ্জ চারুকলায় পড়ার সময় জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্রফেডারেশনে যোগ দেন।
বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন তিনি। বাসভাড়া ও যাত্রী অধিকার, রেলওয়ের জমি সংরক্ষণ, তানভীর মোহাম্মদ ত্বকীর হত্যার বিচার দাবি, সুন্দরবন রক্ষা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন বলেও জানা যায়। একই সময় শামীম ওসমানের বাসভবন পোড়ানোর ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি মামলায়ও তিনি অভিযুক্ত হন।
সদর ও বন্দরের স্বাস্থ্যসেবা, সড়ক যোগাযোগ, পানি ও গ্যাস সরবরাহ, মাদক সমস্যাসহ বিভিন্ন জনদুর্ভোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব সুজন। বর্তমানে তিনি রেড ক্রিসেন্টের একটি অ্যাডহক কমিটির সদস্য হিসেবেও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে ১৭ দফা ইশতেহার ঘোষণার পাশাপাশি বিলবোর্ডে নির্বাচনী বার্তা তুলে ধরে আলাদা নজর কাড়ছেন তিনি। ভিন্নধর্মী প্রচারণা কৌশল স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত তার ভাগ্য নির্ধারণ করবে ভোটারদের রায়।



















