‘প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াবার’ স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠিত সামাজিক সংগঠন প্রচেষ্টা–এর আয়োজনে এবং ‘ভাই-বন্ধুমহল’ এর সার্বিক সহযোগিতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকাল ৪টায় নারায়ণগঞ্জের বাংলাবাজার এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবির আহমেদ শহীদ এবং সঞ্চালনায় ছিলেন শিকদার বাসির চিশতী।
দোয়া মাহফিলে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে শীতার্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী বলেন, খালেদা জিয়ার জন্য এত মায়া কেনো লাগে? একটা প্রশ্ন আসতেই পারে। আমার খুব ভালো করেই মনে আছে যখন একটা সময় ছিল, ফ্যাসিস্টের ভয়ে আমরা কথা বলতাম না। কথা বলতে চাইলেও বলতাম না। খালেদা জিয়াকে বন্দী করে রাখা হয়েছিলো। তার অফিসের সামনের রাস্তা বালির ট্রাক দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছিল।
গোয়েন্দারা সমানে এদিকে সেদিকে গিয়ে বিএনপিকে করে, বিএনপির নাম কে মুখে নেয়। উচ্চারণ করে। এমন মানুষগুলোকে তালাশ করছিলো। এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তখন তৈরি করে রাখা হয়েছিলো। তখন মুসিবতের উপর আরেক মুসিবত আসলো তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো ইন্তেকাল করলেন। এমন মুসিবতের দিনে তার পাশে দাঁড়ানোর মত কোন মানুষ ছিল না, একজন খুব নীর আলেম ছিলেন যার নাম ছিলো নূর হোসাইন কাসেমী।
হেফাজতের যিনি সংগ্রামী মহাসচিব ছিলেন। উনার সঙ্গে মিলে ছয় জনের পারমিশন নিলাম। খুব কষ্টে পারমিশন নেওয়া হলো। আর যাওয়ার জন্য চোরা পথ তালাশ করা হলো। রাতের আঁধারে যখন আমরা ছয় জন ওনার ওখানে গেলাম। ওনার ওসিলায় আমরা সুযোগটা পেয়েছিলাম। বিশ্বাস করেন, গিয়ে দেখি ভিতরে রাত তখন পোনে এগারোটা বাজে। সেলিনা রহমানসহ আরও সব বয়োজ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ সকলেই তখন একসাথে বসে কোরআন শরীফ, দোয়ার বই ও তাসবীহ তাহলীল পড়ছিলেন। ৩০-৩৫ জন লোক বসা ছিলেন। সকলের মধ্যমণি ছিলেন আমার মা, আপনার মা, গণতন্ত্রের মা হিসেবে যাকে আমরা চিনি বেগম খালেদা জিয়া।
কাসেমীর সাহেব হুজুরকে তারা এতটা সম্মান করতেন, বিশ দলীয় যে জোট ছিল সে জোটের যদি কোন বৈঠক হতো তাহলে সেই বৈঠকে সভাপতি হিসেবে কাসেমী সাহেবকে নির্ধারণ করতেন।এত বড় বড় জাদরেল ব্যক্তি ব্যক্তি থাকতে তাকে সভাপতি বানাতেন।
কেন তার জন্য মন কাঁদবে না আপনারা বলেন? তখন তিনি মাথায় ঘোমটা টেনে হুজুরের কাছে এসে বলতেছিলেন, হুজুর! একটা কিছু করেন। আমাদের জন্য কিছু করেন। আমার নেতা কর্মীরা তো বাড়িতে ঘুমাতে পারছে না।
নিজের ছেলে হারাইছে তার জন্য কোন ব্যাথা বেদনা নযা করে আমার জন্য আপনার জন্য তিনি কাদতেছিলেন। দেশের মানুষের জন্য তিনি কাদতেছিলেন। যেই মা এভাবে কাঁদতে পারেন। যেই মা আপনাকে নিয়ে এভাবে ভাবতে পারেন, তার জন্য কান্না করবো না কেন বলেন? আমি তো মনে করি তার জন্য আমাদের কুরবান হয়ে যাওয়া দরকার। এজন্যই এ মায়ের জন্য দোয়া করতে মনে চায়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।




















