নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন আলীগঞ্জ এলাকায় গৃহবধূ সাবিনা বেগম ওরফে চম্পা (২২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল আসামি স্বামী মো. হামিদুল ইসলাম ওরফে রনি (২৭)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তিনি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মার্চ সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে আলীগঞ্জ পূর্বপাড়া রেললাইন সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত কক্ষে ওই গৃহবধূর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই রুবেল কাজী বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৫৫, তারিখ-১৮/০৩/২০২৬, ধারা-৩০২/২০১/৩৪)। পরে মামলাটি পিবিআই তদন্তভার গ্রহণ করে।
তদন্তে তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে আলীগঞ্জ এলাকা থেকে মূল আসামি রনিকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এবং তদন্তে জানা যায়, পারিবারিক কলহ ও পরকীয়া সন্দেহ থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। গত ২০ ফেব্রুয়ারি সাবিনা বেগমের সঙ্গে রনির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীর পূর্বের সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ করে আসছিলেন রনি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো।
ঘটনার দিন রাতে দাম্পত্য কলহের একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রনি তার স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে ফেলে রাখেন।
পিবিআই জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিকে ১৯ মার্চ আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।















