প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ২০২৬ সালে সারা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বড় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশে। এমন বিশাল পরিসরের নির্বাচন আর কোথাও হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকরা বাংলাদেশের নির্বাচনী আয়োজন দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানান সিইসি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইস্কাটনে ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সিইসি জানান, এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। কোথাও কোথাও কেন্দ্রের বাইরে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঠাকুরগাঁর একটি কেন্দ্রে জামায়াত ও বিএনপির দুই নেতাকে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে কথা বলতে দেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ দৃশ্যই গণতন্ত্রের সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলে।
তিনি জানান, নির্বাচন পরিচালনায় প্রায় ১৭ লাখ মানুষ কাজ করছেন। এর মধ্যে সাড়ে ৯ লাখের মতো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী ভোটগ্রহণে দায়িত্ব পালন করছেন। এত বিপুল জনবলকে সমন্বয় করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নির্বাচনী কাজে সম্পৃক্ত করা একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সিইসি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের পথে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কমিশন এগিয়েছে। সামনে আরও চ্যালেঞ্জ এলেও সবার সহযোগিতায় তা সামাল দেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলেও মন্তব্য করেন নাসির উদ্দিন।
পাতানো নির্বাচনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কমিশন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন কোনো পক্ষের নয় শুধু একটি অবাধ পরিবেশ নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য। অতীতের কেন্দ্র দখল বা কারচুপির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।
এছাড়া জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট মিলিয়ে ২৫৪ মিলিয়ন ব্যালট পেপার ছাপানো এবং সেগুলো দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়াকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন সিইসি।



















