ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর–বন্দর) আসনের রাজনৈতিক মাঠে পরিচিত হেভিওয়েট প্রার্থীদের ভিড়ের মধ্যেও আলাদা করে নজর কাড়ছেন তরুণ প্রার্থী তারিকুল ইসলাম সুজন। গণসংহতি আন্দোলনের এই নেতা চিরাচরিত নির্বাচনী প্রচারণার ধারা থেকে সরে এসে ভিন্নধর্মী কৌশল গ্রহণ করায় ভোটারদের মধ্যে বাড়ছে কৌতূহল ও আগ্রহ।
বিশাল শোডাউন, ব্যানার,ফেস্টুন কিংবা ব্যয়বহুল গণসংযোগের পরিবর্তে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা এবং নাগরিক সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধানের প্রতিশ্রুতি এসবই তার প্রচারণার মূল বৈশিষ্ট্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যতিক্রমী কৌশল তাকে সাধারণ ভোটারদের আরও কাছে নিয়ে যাচ্ছে।
তারিকুল ইসলাম সুজন তার প্রচারণায় নারায়ণগঞ্জের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত নাগরিক সমস্যাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। জলাবদ্ধতা, যানজট, বেকারত্ব, ডেঙ্গু, মাদক ও সন্ত্রাসের মতো ইস্যুগুলোকে তিনি শুধু স্লোগানে সীমাবদ্ধ রাখেননি। মাঠপর্যায়ে সক্রিয় অংশগ্রহণ, নাগরিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং ধারাবাহিক অবস্থানের মাধ্যমে নিজেকে এসব সমস্যার প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরছেন।
চিরাচরিত প্রচারণার বাইরে গিয়ে তিনি প্রতিদিন প্রায় আট ঘণ্টা ধরে নির্বাচনী এলাকায় হেঁটে হেঁটে ভোটারদের বাসায় যাচ্ছেন। সরাসরি তাদের কথা শুনছেন, সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা জানছেন এবং নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মুখোমুখি সংলাপই একজন জনপ্রতিনিধিকে জনগণের প্রকৃত চাহিদা বোঝার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
এই ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারণা কৌশলের ফলে ভোটারদের সঙ্গে তার দূরত্ব কমছে এবং তিনি একজন সহজলভ্য ও কথা শোনার মানসিকতা থাকা প্রার্থী হিসেবে পরিচিত হচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এবারের নির্বাচনে তার প্রচারণার সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগ হলো ‘হাতের মুঠোয় এমপি’ নামে একটি সিটিজেন কানেক্টেড অ্যাপের ধারণা। এই অ্যাপের মাধ্যমে ভোটাররা ঘরে বসেই তাদের সমস্যা, অভিযোগ, প্রস্তাব কিংবা জরুরি সেবার আবেদন সরাসরি এমপির দপ্তরে জানাতে পারবেন এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। সংসদীয় রাজনীতিতে প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগকে অনেকেই সময়োপযোগী ও ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখছেন।
তারিকুল ইসলাম সুজনের মতে, এই অ্যাপ জনপ্রতিনিধি ও জনগণের মধ্যকার দূরত্ব কমাবে, একই সঙ্গে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। নির্বাচিত হলে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের একটি স্থায়ী ও কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এটি ব্যবহারের অঙ্গীকারও করেন তিনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এই উদ্যোগ তরুণ ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলছে।
এছাড়া সামাজিক পরিসর ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সক্রিয় উপস্থিতিও আলোচনায় এসেছে। নিয়মিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং অনলাইন মাধ্যমে সরব থাকায় ভোটারদের সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত সংযোগ তৈরির চেষ্টা স্পষ্ট হচ্ছে।
সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে তারিকুল ইসলাম সুজনের প্রচারণা কেবল একজন প্রার্থীর নির্বাচনমুখী তৎপরতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ভিন্ন ধারার একটি বার্তা দিচ্ছে। নাগরিক ইস্যু, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের এই প্রচেষ্টা নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



















