গণসংহতি আন্দোলন মনোনীত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের ‘মাথাল’ প্রতীকের প্রার্থী ও সংগঠনের জেলা নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নজরদারির হুমকির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক বিবৃতিতে অঞ্জন দাস বলেন, গত শুক্রবার সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ছোট সাদিপুর এলাকায় অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলামের পক্ষে দেওয়া একটি বক্তব্য দেশের সংবিধান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি ও দণ্ডবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
তিনি অভিযোগ করেন, ওই সভায় সোনারগাঁ থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন প্রকাশ্যে ভোটারদের উদ্দেশে বলেন—কে কোন প্রতীকে ভোট দিচ্ছে তা ‘মার্ক করা হবে’, ভোটারদের ওপর ‘গোয়েন্দা বসানো হয়েছে’ এবং নির্বাচন শেষে ভিন্ন প্রতীকে ভোট দিলে ‘কোনো রেহাই দেওয়া হবে না’। এসব বক্তব্য ভোটের গোপনীয়তা ও নাগরিকদের স্বাধীন ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার সরাসরি হুমকি।
অঞ্জন দাস বলেন, এ ধরনের বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত নয়, বরং এটি পরিকল্পিত ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিশোধের ঘোষণা, যা ফৌজদারি অপরাধের শামিল।
তিনি আরও বলেন, কোনো প্রার্থীর পক্ষে দাঁড়িয়ে যদি দলীয় পদধারী ব্যক্তি ভোটারদের নজরদারি, তালিকা তৈরি ও শাস্তির হুমকি দেন, তবে তা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ ধ্বংস করে। ভোটারদের বোঝানো হচ্ছে তারা স্বাধীন নন—এটি গণতন্ত্র নয়, বরং ভয়ভিত্তিক দমননীতি।
অঞ্জন দাস স্পষ্ট করে বলেন, যদিও উক্ত বক্তব্যটি প্রার্থী নিজে দেননি, তবে তার পক্ষে কর্মরত একজন দায়িত্বশীল নেতার এমন কর্মকাণ্ডের রাজনৈতিক ও আইনগত দায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর ওপর বর্তায়। নির্বাচনী আইনে এ দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশন, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অবিলম্বে স্বতঃপ্রণোদিত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ভোটারদের জন্য ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, ভোট জনগণের মৌলিক অধিকার কোনো দল বা ব্যক্তি হুমকি দিয়ে এই অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। নির্বাচনের ফল নির্ধারিত হবে জনগণের রায়ের মাধ্যমেই, ভয় দেখিয়ে নয়।



















