নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর আঙুলে যে অমোচনীয় কালি লাগানো হয়, সেটি শুধু একটি চিহ্ন নয় এটি ভোটের স্বচ্ছতা ও জাল ভোট প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ উপায়। একবার লাগালে সহজে না ওঠার কারণও রয়েছে বৈজ্ঞানিকভাবে।
এই বিশেষ কালির প্রধান উপাদান হলো সিলভার নাইট্রেট। সাধারণত ১০ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত সিলভার নাইট্রেট ব্যবহার করা হয়। এর সঙ্গে থাকে অ্যালকোহলভিত্তিক দ্রাবক ও রং, যা দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে।
সিলভার নাইট্রেট ত্বকের উপরের স্তর ‘কেরাটিন’-এর সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে। বাতাস ও আলোয় সংস্পর্শে এসে এটি গাঢ় রঙ ধারণ করে এবং ত্বকের ভেতরে প্রবেশ করে দাগ তৈরি করে। ফলে সাবান-পানি ব্যবহার করেও সহজে এই চিহ্ন মুছে ফেলা যায় না।
তবে দাগটি স্থায়ী নয়। সাধারণত ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে ত্বকের পুরোনো কোষ ঝরে গেলে কালির চিহ্নও মিলিয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত মাত্রায় প্রস্তুত হওয়ায় এই কালি সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন ধরে এটি ব্যবহার হলেও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে সংবেদনশীল ত্বকে সামান্য জ্বালা বা লালচে ভাব দেখা দিতে পারে। চোখ বা খোলা ক্ষতস্থানে লাগলে অস্বস্তি হতে পারে এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।



















