মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এস.এম মোমেন ও বন্দর থানার সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন এর নেতৃত্বে তারেক জিয়ার নির্দেশ, চাঁদাবাজ মুক্ত বাংলাদেশ এই স্লোগান দিয়ে বন্দরের মদনপুর স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি বিরোধী কর্মসূচি পালন করার পর মাত্র ২দিন পরই তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৫ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে তারা একটি ভবনের কেয়ারটেকারকে মারধর করে জোড় করে দেড়লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।
মদনপুর এলাকায় পাইছার পোলা হিসেবে পরিচিত মোমেন ও আল আমিন এর অনুসারীদের বিরুদ্ধে ওই চাঁদাবাজির ঘটনায় বন্দর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
এ ঘটনায় মারধরের শিকার কেয়ারটেকার মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাদী হয়ে বুধবার ১৮ ফেব্রুয়ারি বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ৫জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন, মদনপুর ফুলহর এলাকার হাবিব উল্লাহর ছেলে এস.এম বিল্লাল হোসেন ওরফে টোকাই বিল্লাল, জাহের উল্লাহর ছেলে দ্বিপ হোসেন, আলাল হোসেন এর ছেলে আরাফাত, রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে সুজন।
এরা মোমেন ও আল-আমিন এর চাচাতো ভাই ও রাজনৈতিক অনুসারী বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি এস.এম বিল্লাহ ওরফে টোকাই বিল্লাল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় জেল থেকে জামিনে বের হয়েছে।
মদনপুরের এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম পুত্র মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা তার ফেসবুকে আইডিতে পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, সাবধান করার পরও মদনপুর এলাকায় চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। ইনশাল্লাহ রমজানের প্রথম দিন থেকে সাধারণ মানুষ শান্তিতে ঘুমাবে। কিন্তু আপনি চাঁদাবাজ হয়েও বাড়িতে ঘুমাতে পারবেন তো?।
এদিকে মামলার বাদী সালাউদ্দিন অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি মদনপুর স্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি হাসপাতালের ভবনের মালিকের কেয়ারটেকার হিসাবে ৪ বছর যাবত চাকরি করে আসছেন। বিবাদীরা তার কাছে এসে ওই ভবনের মালিকের মোবাইল নাম্বার চান এবং তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দবি করে, চাঁদা না দিলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিতে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টায় উল্লেখিতরা ওই ভবনের কাছে এসে চাঁদা দাবি করে এবং তাকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার কাছে থাকা দোকান ভাড়ার ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এরপর ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৫টায় পুনরায় দেশীয় অস্ত্রে শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তারা ভবনের নিচে এসে আবারো ৫ লাখ টাকা দাবি করে। চাঁদা দিতে অসম্মতি জানালে ২নং বিবাদী দিপ্ত হোসেন তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে সালাউদ্দিনের মাথায় কোপ দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। ১ ও ৩নং বিবাদী সালাউদ্দিনের প্যান্টের পকেটে থাকা বিল্ডিংয়ের ভাড়া বাবদ নগদ ১,৫০,০০০/-(এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা নিয়ে নেয়।
ডাকচিৎকারে তার ভাই শাহাবুদ্দিন তাকে বাচাতে আসলে তাকেও আঘাত করে বিভিন্ন স্থানে নীলফুলা জখম করা হয়। এ সময় আশে পাশের লোক ছুটে এসে তাদেরকে উদ্ধার করলে হামলাকারীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়।
এর আগে ১৬ ফেব্রুয়ারি এস এম মোমেন ও আলামিন এর নেতৃত্বে মদনপুর স্ট্যান্ডে ফুটপাত ও আশে পাশের দোকানপাট সহ, সিএনজি ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালকদের উক্ত স্থানে ব্যবসা করতে কাউকে চাঁদা না দেওয়ার কথা বলে লিফলেট বিতরণ করেন। কেউ লাইনের ম্যান্টেনের নামে টাকা নিতে আসলে তাদেরকে ধরে ৯৯৯ নাম্বার কল দেওয়ার অনুরোধ করেন।
মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এস.এম মোমেন বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছিলেন, জনগণের ভোটের নির্বাচিত হতে পারলে বাংলাদেশকে চাঁদাবাজি মুক্ত করবো। সেই লক্ষ্যেই আমরা আজকে মদনপুর ট্যান্ডে রাস্তায় নেমেছি। এখানে গত ১৬ বছর চাঁদাবাজি হয়েছে। এখনো সেই ফ্যাসিস্টের দোসররা চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে। আর এসকল চাঁদাবাজির দায় আসছে বিএনপির উপর। আমরা সেই দায় নিবো না। আমাদের নব নির্বাচিত এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং উনার ছেলে আবুল কাউসার আশা বন্দরকে চাঁদাবাজি মুক্ত করার ঘোষণা দিছেন। তাই আমরা এই মদনপুর থেকে শুরু করলাম, আশা করি সারাদেশের বিএনপির নেতারাও এমন কমর্সূচি হাতে নিবেন।
স্থানীয়দের মতে যারা চাঁদাবাজি বন্ধের জন্য এলাকায় মাইকিং সহ লিফলেট বিতরণ করে বক্তব্য দিচ্ছেন কেউ চাঁদাবাজি করতে আসলে বেঁধে রেখে পুলিশে খরব দিতে তাদের লোকজনই চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম এবং তার ছেলে আবুল কাউসার আশা সহ প্রশাসনের কঠোর ভাবে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে তারা মনে করেন। নয়তো এসকল চাঁদাবাজদের অপকর্মের দায় বিএনপির কাধে গিয়ে পড়বে।










