ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরা সীমিত সাংগঠনিক শক্তি ও আর্থিক সামর্থ্য নিয়েও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর জোরালো প্রচারণার মধ্যেও লিফলেট বিতরণ, পথসভা, ছোট সমাবেশ ও ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাওয়ার মাধ্যমে তারা ভোটারদের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরছেন।
দলীয় কর্মী-সমর্থকদের দাবি, শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থাকার কারণে বাম প্রার্থীরা এসব শ্রেণির মানুষের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন। এবার নারায়ণগঞ্জে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা অধিকাংশ বামপন্থী প্রার্থী গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট জোটভুক্ত দলগুলোর মনোনীত হলেও স্থানীয় বাস্তবতায় নিজ নিজ দলকেন্দ্রিক সংগঠন নিয়েই তারা প্রচারণা চালাচ্ছেন।
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী মনিরুজ্জামান চন্দন (কাস্তে) বাজার ও বিভিন্ন এলাকায় পথসভা ও গণসংযোগ করছেন। তাঁর প্রচারণায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শ্রমিক অধিকার গুরুত্ব পাচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে সিপিবির প্রার্থী হাফিজুল ইসলাম (কাস্তে) গ্রামীণ জনপদে লিফলেট বিতরণ ও সংক্ষিপ্ত পথসভার মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করছেন। কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধির দাবি তার প্রচারণার মূল বিষয়। যদিও আগের নির্বাচনে আশানুরূপ ফল পাননি তিনি, তবে এবার ব্যাপক সাড়া মিলছে বলে দাবি কর্মী-সমর্থকদের।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে কোনো বামপন্থী প্রার্থী না থাকায় সেখানে দলগুলোর সাংগঠনিক তৎপরতাও নেই।
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সদরের একাংশ) আসনে একাধিক বামপন্থী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—বাসদের সেলিম মাহমুদ (মই), জাসদের মো. সুলাইমান দেওয়ান (মশাল) এবং সিপিবির ইকবাল হোসেন (কাস্তে)। শিল্পাঞ্চল অধ্যুষিত এই আসনে শ্রমিক অধিকার, ন্যায্য মজুরি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে অবস্থানকে কেন্দ্র করে তাদের প্রচারণা চলছে।
নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে বাসদের আবু নাঈম খান বিপ্লব (মই) ও সিপিবির মন্টু চন্দ্র ঘোষ (কাস্তে) প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। আবু নাঈম খান বিপ্লব নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ চালিয়ে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়, বাসস্থান সংকট ও নাগরিক সেবার কথা তুলে ধরছেন। অন্যদিকে প্রবীণ রাজনীতিবিদ মন্টু চন্দ্র ঘোষের রয়েছে স্থানীয় পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা, যা প্রচারণায় বাড়তি উৎসাহ যোগাচ্ছে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে।
সব মিলিয়ে বড় দলগুলোর প্রচারণার জোরের মাঝেও আদর্শভিত্তিক রাজনীতি ও স্থানীয় ইস্যুকে সামনে রেখে বামপন্থী প্রার্থীরা নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। সীমিত সংগঠন ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা সত্ত্বেও এই মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।




















