নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনকে প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির এক নেতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করতে পারেন। এতে গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে হুকুমের আসামি করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রাসেল মাহমুদসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত কয়েকশ জনকে আসামি করা হতে পারে। বুধবার এনসিপির একাধিক নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক শওকত আলী অভিযোগ করে বলেন, সংসদ সদস্যকে অবরুদ্ধ করে রাখার সময় হাতেমের অনুসারীরা অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়েছে এবং তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। হামলায় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক ফয়সাল আহমেদ চোখে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এনসিপি নেতাদের দাবি, হাতেমের ডাকে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে ফয়সাল আহমেদ, জোবায়ের, জাবেদ আলম ও তরিকুল ইসলামসহ অন্তত চারজন আহত হন।
এদিকে এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের এক সভায় বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থা কী ব্যবস্থা নিচ্ছে এ প্রশ্ন তুলেছিলেন হাতেম এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, “হাজারো মানুষ তখন শহীদ হয়েছে, আর সেই সময় দাঁড়িয়ে তিনি জুলাইকে ‘তাণ্ডব’ বলেছেন। আমরা জানতে চাই তিনি কি বাধ্য হয়ে বলেছিলেন, নাকি সেটাই তার প্রকৃত বক্তব্য।”
ঘটনার বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান জানান, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার বিসিক শিল্পনগরীর টপ ফ্যাশন কারখানায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন।
ইফতারের আগে তিনি মঞ্চে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে দেখতে পান। এ সময় মঞ্চে বসতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি দর্শকদের সঙ্গে বসেন এবং বলেন, “ফ্যাসিস্টের দোসরের পাশে আমি বসতে পারি না।”
এ বক্তব্যের পর হাতেম মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যান। পরে তার অনুসারী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রাসেল মাহমুদের সমর্থকেরা ভবনের নিচে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং এমপির কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন। একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত এনসিপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর রাত ৮টার দিকে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামানের নেতৃত্বে এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন ও তার নেতাকর্মীদের সেখান থেকে নিরাপদে বের করে আনা হয় এবং পরে তাকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় এনসিপির কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম দাবি করেন, এমপি অনুষ্ঠানে এসে মঞ্চে না বসে ফ্যাসিবাদের দোসর আছে বলে মন্তব্য করলে উপস্থিত শিল্প মালিকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে যান। তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার পরামর্শ দেন।
হাতেম বলেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় তিনি পুলিশ সুপারকে অনুরোধ করেন এমপিকে নিরাপদে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য। পরে পুলিশ এসে তাকে নিরাপদে বের করে নিয়ে যায়।



















